বাংলাদেশে দুই বিদেশি হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে সময় চাওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীর দোয়াও চেয়েছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। দুই সপ্তাহেও খুনিরা চিহ্নিত না হওয়ার মধ্যে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের (সাংবাদিক) বার বার অনুরোধ করছি, একটু সময় দেন, সহযোগিতা করুন। কোনো কিছু চুড়ান্ত পর্যায়ে আসতে হলে সময় লাগে। বিভিন্ন তথ্য ‘ভেরিফাই’ করতে হয়, যাচাই-বাছাই করতে হয়। আপনারা ধৈর্য ধরুন। জনগণের সহযোগিতা চাই, দোয়া চাই।”
এখনও না পারলেও অচিরেই দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদের আশা প্রকাশ করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় চেজারে তাভেল্লা নামের এক ইতালীয় এনজিওকর্মীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর পাঁচ দিনের মাথায় রংপুরের এক গ্রামে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি।
দুটি ঘটনার পরই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর আইএসের দায়িত্ব স্বীকার করে যে টুইট এসেছিল, তা করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে।
তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হোশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরে বিএনপির এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বুধবার সেগুন বাগিচায় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভা করেন আইজিপি শহীদুল। ওই সভা থেকে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।
আসন্ন পূজায় হুমকির কোনো তথ্য গোয়েন্দাদের কাছ থেকে না পেলেও নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে জানান পুলিশ প্রধান।
“যেহেতু দুজন বিদেশি নাগরিককে খুন হয়েছেন। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”
প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।
“জেলা পর্যায়ে থাকবে কন্ট্রোল রুম। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।”


