বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘প্যারিসে রামপাল নিয়ে সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশ’

tib+dr.-ifteqer_337175ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলনে অংশগ্রহণের আগেই রামপাল-মতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তা নাহলে ৩০ নভেম্বর প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্যারিস সম্মেলনে যাওয়ার আগেই সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। যারা আন্তর্জাতিক এক্সপার্ট তাদের দিয়ে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও ক্ষতিকারণ প্রভাব পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

ড. জামান বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিয়ে প্যারিসে আলোচনা হবে। সরকারের প্রতিনিধি দল সেখানে অপমান হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সম্মেলনে যোগদানের আগেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তারা আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তারা ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে সে অঙ্গীকার অনুসারে উন্নত দেশগুলো অর্থ ছাড় করছেন না। আবার যতটুকু ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে তা আবার কোনো কোনো মহল থেকে ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশ উভয় দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েকদফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনি বাধ্যতামূলক চুক্তি বাস্তবায়ন করা, প্যারিস চুক্তিতে আইনি বাধ্যতার আওতায় ‘দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ২০১৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে দীর্ঘ মেয়াদে যথার্থ এবং চাহিদা ভিত্তিক অর্থায়নের পথ নকশা প্রণয়ন করা।

টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হোসেন খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন