বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় ভারতীয়রা!

1444932214বাংলাদেশ-ভারত এবং মিয়ানমারের ত্রি-দেশীয় সীমান্তবর্তী ডেবিল ট্র্রেঞ্চে জমজমাট অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে একে-৪৭ এবং এ কে-২২ রাইফেলের অবাধ কেনাবেচা চলে সেখানে। মিজোরামে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক পালিয়ান এ ব্যবসার মূলহোতা বলে নিশ্চিত হয়েছে র‌্যাব। আর এসব ভারী অস্ত্রের মূল ক্রেতা হিসেবে রয়েছে উপজাতীয় বিবাদমান সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। মূলত তাদের মাধ্যমেই অস্ত্রের চালান সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রায়ই উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছ থেকে একে-৪৭ এবং একে-২২ রাইফেলের মতো ভারী অস্ত্র উদ্ধার করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য না থাকায় বন্ধ করা যাচ্ছিল না সাপ্লাই চেইন।

উৎস জানতে শেষ পর্যন্ত কিছুটা সফল হয়েছে র‍্যাব। পাঁচবার ব্যর্থ হওয়ার পর ষষ্ঠবার ক্রেতা হিসেবে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের একটি অংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সফল হয় তারা। আর ২০ লাখ টাকায় অস্ত্র কেনার ফাঁদ পেতে উদ্ধার করা হয় তিনটি একে ফোরটি সেভেন রাইফেল এবং দু’টি বিদেশি পিস্তল। এ সময় গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তারা অস্ত্রগুলো বিক্রির জন্য শহরে নিয়ে আসছিল। তারা মূলত পাহাড়ের বিবাদমান গোষ্ঠীর লোকদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। এছাড়া তারা শহরের বিভিন্ন লোকদের কাছেও অস্ত্র বিক্রি করে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

মূলত ডেবিল ট্রেঞ্চ হিসেবে পরিচিত ভারত-বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার ত্রিদেশীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসছে এসব অস্ত্র। আর এর নেপথ্যে রয়েছে পালিয়ান নামে এক ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি র‍্যাবের। এ ব্যাপারে র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক শাহেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদে যতটুকু জানতে পেরেছি ভারতের এক নাগরিক যিনি মিজোরামে থাকে ওই ব্যক্তি এই অস্ত্র ব্যবসার মূল হোতা। সেখানে সে মূলত অস্ত্রগুলো সরবরাহ করে।’

আর নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদেরকে অস্ত্র যোগান দেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে কিছু কিছু অস্ত্র আমাদের দেশে আসছে।’ র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় দু’ থেকে চার লাখ টাকায় বিক্রি হয় একেকটি অস্ত্র। এমনকি উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে বাকিতেও অস্ত্র বিক্রি হয়। আর পাহাড় পেরিয়ে সমতলে আসার পর এসব অস্ত্রের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমারে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আছে তারা যখন তাদের অস্ত্র বিক্রি করে দিতে চায়, তখন তারা এই অস্ত্রগুলো আমাদের দেশে বিক্রি করেন।’

চলতি বছরের গত ১০ মাসে র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে তিনটি এ কে৪৭, ৯টি একে-২২ রাইফেল, ৩৫টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। একইভাবে সেনাবাহিনীও পাহাড়ি এলাকা থেকে একাধিক ভারী অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

আরও পড়ুন