বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সন্তু লারমা ও চাকমা রাজার সঙ্গে রেনিন সো’র কি সম্পর্ক?

1445006553 (1)জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা ও চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের সঙ্গে সম্প্রতি গ্রেফতার মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির নেতা রেনিন সো’র সম্পর্ক কি? এবং রেনিন সো’র বাংলাদেশে অবস্থানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই বা কি- এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।

সন্তু লারমা ও চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের সঙ্গে রেনিন সো’র হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিন জনের হাস্যোজ্জ্বল ছবিটি এখন মানুষের ফেসবুক ওয়ালে ঘোরাফেরা করছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। উঠছে নানা প্রশ্নও।

এদিকে পাবত্য অঞ্চলের বাংলাদেশ-ভারত এবং মিয়ানমারের ত্রি-দেশীয় সীমান্তবর্তী ডেবিল ট্র্রেঞ্চে জমজমাট অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে একে-৪৭ এবং এ কে-২২ রাইফেলের অবাধ কেনাবেচা চলে সেখানে। ভারতীয় নাগরিক পালিয়ান এ ব্যবসার মূলহোতা বলে নিশ্চিত হয়েছে র‌্যাব। আর এসব ভারী অস্ত্রের মূল ক্রেতা হিসেবে রয়েছে উপজাতীয় বিবাদমান সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। মূলত তাদের মাধ্যমেই অস্ত্রের চালান সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, পাবত্য অঞ্চলে প্রায়ই উপজাতি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছ থেকে একে-৪৭ এবং একে-২২ রাইফেলের মতো ভারী অস্ত্র উদ্ধার করে আইন শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সব ঘটনার সঙ্গে পাবত্য অঞ্চলের উপজাতি সংগঠনগুলোর নেতা জড়িত থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্তু লারমা ও চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের সঙ্গে রেনিন সো’র হাস্যোজ্জ্বল ছবি নিয়ে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। এ ছবিকে পার্বত্য অঞ্চল অস্থির করা পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন।

গত ২৪ আগস্ট বান্দরবানের থানচির সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির একটি যৌথ টহল দলের ওপর আরাকান আর্মির হামলা ও গোলাগুলির পর রাজস্থলীতে রেনিন সো’র খোঁজ পায় পুলিশ। ২৬ আগস্ট রাতে রেনিন সো’র বাসায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। রেনিনকে আটক করা না গেলেও তার সহযোগী অংনু ইয়াং রাখাইনকে আটক করা হয়।

তার কাছে আরাকান আর্মির তিনটি পোশাক, পোশাক তৈরির ৩০ গজ কাপড়, তিনটি ল্যাপটপ ও তিনটি ক্যামেরাসহ পাওয়া গেছে ২টি ঘোড়া। ওই বাড়ির দুই কেয়ারটেকার মংচু অং মারমা ও চুইস অং মারমাও গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।

অংনু ইয়াং রাখাইন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তিনি আরাকান আর্মির সহযোগী। তার বাড়ি আরাকানে। রেনিন সো’র বিষয়েও তথ্য দেন তিনি। চিকিৎসা শাস্ত্রের ডিগ্রিধারী রেনিন এক সময় নেদারল্যান্ডসে কাটিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি রাজস্থলীতে বাড়ি বানিয়ে স্থানীয় এক মার্মা তরুণীকে বিয়ে করে রাঙামাটিতেই থাকছিলেন। সেখান থেকেই তিনি আরাকান আর্মির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

বিশেষ প্রতিনিধি

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন