বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাতে বাড়িতে ঢুকে চিকিৎসককে কুপিয়ে জখম

jakhamচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এক চিকিৎসককে বাসায় ঢুকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে তারেক শামস (৩৬) নামের ওই চিকিৎসককে তাঁর হালিশহরের রঙ্গিপাড়ার বাসায় ঢুকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

তারেক শামস চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের চিকিৎসক। তাঁর বাবাও চিকিৎসক। তাঁর নাম শামসুল আলম। মা আনোয়ারা আলম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) আরেফিন জুয়েল জানান, সোমবার ভোরে নগরের হালিশহর থানার রঙ্গিপাড়া এলাকার বাসায় ঢুকে তারেককে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ দুর্বৃত্তরা কোনো মালামাল নিয়ে যায়নি। শত্রুতাবশত কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঘটনার পর তারেক শামসকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারেকের দুই হাত, বুক ও মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত তাঁর দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখা হয়। তাঁকে বিকেল চারটা পর্যন্ত আট ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শহিদুল গণি বলেন, ডা. তারেক শামসের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা না গেলে তাঁকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, রঙ্গিপাড়ার দ্বিতল বাড়ির নিচতলায় স্ত্রীসহ তারেক শামস থাকতেন। তাঁর মা ও বাবা থাকতেন ওপরতলায়। স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। তারেক নিচতলায় একা ছিলেন।

তারেকের মা আনোয়ারা আলম জানান, ‘রাত ১২টায় আমরা খাবার খেয়ে ওপরে উঠে যাই। সাড়ে পাঁচটার দিকে আমাদের দোতলার দরজায় এসে স্থানীয় লোকজন আমাদের ডাকাডাকি করে ঘুম ভাঙায়।’ তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তারেকের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ঘরে ঢুকে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি আরও জানান, ‘কীভাবে কেন ঘটনা ঘটল আমি কিছুই জানি না। তবে পুলিশ জানিয়েছে আমাদের ছাদের দরজা খোলা ছিল।’ ওই দরজা দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।’

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুল ইসলাম জানান, ‘আমরা ঘরের মূল দরজা ভাঙা পাইনি। দুর্বৃত্তরা কীভাবে ঢুকেছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। ওই ডাক্তার গুরুতর অসুস্থ। তাই কথা বলা সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন