জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগের সেই নেতাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বেঁধে দেওয়া সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে একক ক্ষমতাবলে তাঁকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য।
অব্যাহতি পাওয়া ফয়সাল হোসেন দীপু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এ নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে কমপক্ষে এক মাস আগে নোটিশ দিতে হয়। দীপুকে আজ সোমবার চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এক মাস পর তাঁকে চাকরি থেকে সরে যেতে হবে।’
এদিকে দাবি অনুযায়ী ছাত্রলীগ নেতার নিয়োগ বাতিল করায় পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে নিয়ে ফয়সাল হোসেন দীপুকে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা আমাদের কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি।’
কর্মসূচি প্রত্যাহারের ফলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তাও দূর হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির আজকের সভায় প্রায় ২৫ জনের মতো সদস্য তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন। সবার বক্তব্য শুনে সভাপতি মহোদয় আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশ নিতে রুলিং দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে ফয়সাল হোসেন দীপুকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শিক্ষকদের বিরোধিতা সত্ত্বেও গত ১৩ জুলাই ঈদুল ফিতরের ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে একক ক্ষমতাবলে চার ছাত্রলীগ নেতাসহ ছয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন উপাচার্য। তখন ফয়সাল হোসেন দীপুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফয়সাল হোসেন দীপুর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে তাঁকে নিয়োগ না দিতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেন শিক্ষকরা।
পরে ৩ আগস্ট দীপু বাদে বাকি পাঁচজন নিজ নিজ পদে যোগ দিলেও শিক্ষকদের বিরোধিতার কারণে গ্রন্থাগারে যোগ দিতে পারেননি ফয়সাল হোসেন দীপু। পরবর্তী সময়ে আগের নিয়োগ বাতিল করে গত ২৩ আগস্ট দীপুকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পুনরায় নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।
গত শনিবার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রলীগ নেতা দীপুর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উপাচার্যকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় শিক্ষক সমিতি। শিক্ষকদের দাবির মুখে আজ সোমবার ওই ছাত্রলীগ নেতার নিয়োগ বাতিল করেন উপাচার্য।


