বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

পৃথিবীতে মড়ক এনে বিদায় নিচ্ছেন দেবী দুর্গা


NEWSWORLDBD.COM - October 23, 2015

Durga_বাঙালি হিন্দুকে উৎসবে মাতিয়ে ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবীর ‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ সাঙ্গ হল, সময় হল ‘কৈলাসে দেবালয়ে’ ফেরার। বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনের’ মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি ঘটেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবের শেষ হবে।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, দুর্গতিনাশিনী দেবী মর্ত্যলোক ছেড়ে হিমালয়ের কৈলাস সরোবরে স্বামীর বাড়িতে ফিরে গেলেন। দুর্গা যে ক’দিন পিতৃগৃহে (ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী) ছিলেন, ঢোলের বাদ্য সে ক’দিন ভক্তদের মনে ভক্তি আর আনন্দ মূর্ছনা দুই-ই জাগিয়েছে। বিজয়া দশমীতে দুর্গার বিদায় বেলায়ও চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্র পাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, ঢাকের বাজনার সঙ্গে ধুনচি নৃত্য, সিঁদুর খেলা। ধান, দূর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা।

সাধারণত নবমীর পরদিন দশমী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হয়, একই দিনে হয় বিসর্জন। তবে এবার নবমী ও দশমীর তিথি একই দিনে হওয়ায় বিসর্জনের ব্যবস্থা হয়েছে একদিন পর।

শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দেবী দর্শন চলে দিনভর। এই উৎযাপন চলবে শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রণজিৎ চক্রবর্তী জানান, পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, যাবেন দোলায় চড়ে। বলা হয়, দেবীর এমন আগমনের ফল হল পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ, শোক ও হানাহানি; আর দোলায় চেপে তার বিদায়ের অর্থ হল মড়ক।

রণজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে আমরা প্রার্থনা করছি, তিনি যেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মঙ্গল করেন। যুগে যুগে অসুরের বধ করার জন্য তিনি যেভাবে আসেন, আমাদের আশা, তিনি আমাদের এবারের প্রার্থনাও গ্রহণ করবেন।”

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেবী দুর্গার চরণে ভক্তদেরকে শেষ মুহূর্তের প্রার্থনা জানাতে দেখা যায়। মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে পুষ্পাঞ্জলি আর ভোগ দেন তারা।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আরেক পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, “বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতায় আমরা সকালে ষোড়শপ্রচার পূজা করেছি, মায়ের হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে তার আরাধনা করেছি। সবশেষে দর্পণ বিসর্জনের সময় মায়ের সম্মুখে একটি আয়না রেখে তাতে দেবী মাকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নিয়েছি। এখন মা আবাসস্থল কৈলাস ফিরে যাবেন।”

নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টায় ঢাকেশ্বরী থেকে প্রতীমা নিয়ে বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা যাবে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জন শেষে মন্দিরে ‘শান্তির জল’ নিয়ে আসা হবে এবং সন্ধ্যায় মণ্ডপে হবে ‘আশির্বাদ প্রদান’।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি জানান, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে এবার রাজধানীর ২২৫টি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবেই পূজা উদযাপিত হয়েছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.