৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি। উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত ১৭টি দফতরের অফিসারদের বেতন-ভাতার হিসাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) স্বাক্ষর করা সংক্রান্ত অফিস আদেশ বাতিল এবং সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন প্রকৃচি এবং ২৬টি ক্যাডার এসোসিয়েশন ও অন্যান্য সার্ভিসের সংগঠন বিসিএস সমন্বয় কমিটি।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির সমাবেশে এ কথা জানানো হয়।
এছাড়া সমাবেশে ২৮ অক্টোবর সকল উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয়ভাবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি, বেতনভাতা উত্তোলনে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পূর্বের নিয়ম অনুসরণ করা, ৫ নভেম্বর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষিবিদ ইনস্টটিউটের সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম সমাবেশে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কামনা করে সমাবেশে ৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকগণের সঙ্গে মতবিনিময়েরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমন্বয় কমিটির সমাবেশে মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব থেকে সচিব/সিনিয়র সচিব পর্যন্ত সকল পর্যায়ে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তা পদায়ন, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন, বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সকল ক্যাডারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সকল ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিসে পদোন্নতির সমান সুযোগ, নিজস্ব ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিস বহির্ভূত সকল ধরনের প্রেষণ বাতিলের দাবিও জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে। যেসব আমলা সরকারকে বিভ্রান্ত করছে, কর্মকর্তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার হরণ করছে তাদের বিরুদ্ধে। এই চক্রান্তকারীরা আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য করছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, অবশ্যই সফল হব।’
সমাবেশে বলা হয়, ঘোষিত বেতনস্কেলে প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া সব ক্যাডার ও সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ প্রশাসন ক্যাডারের নিজস্ব পদ- সিনিয়র সহকারী কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, কমিশনার ইত্যাদি পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয় না।
আরও বলা হয়, বিধিবহির্ভূত ও অনৈতিকভাবে এবং অবস্থানগত সুবিধার অপব্যবহার করে তাদের সরকারের বিশেষ পদ- উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে নির্ধারিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদ না থাকার অজুহাতে বছরের পর বছর একই পদে ফেলে রাখা হয়।
উপজেলা পরিষদের জন্য জারি করা সার্কুলারের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সেলফড্রয়িং (নিজের স্বাক্ষরে বেতন উত্তোলন) অফিসারদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে দাবি করে সমাবেশে বক্তারা জানান, ইউএনও নিজেও উপজেলা পরিষদের একজন ন্যস্ত কর্মকর্তা। অথচ পরিষদকে কার্যকর করার নামে উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ে ইউএনও-কে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও একমাত্র কর্মকর্তা যার উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেই। উপজেলাকে কার্যকর করতে ইউএনও’র কর্তৃত্ব বাতিল ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।


