বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গরু জবাইয়ের পক্ষে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি

1445768801ভারতে গরু জবাইয়ের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। দলটির মুখপাত্র স্রেফ অর্থনৈতিক বিবেচনায় গরু জবাইয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন পিপলস ডেইলি’র এক সম্পাদকীয়তে। এতে বলা হয়, গরু রফতানি ও জবাইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে প্রতি বছর ৫৩ লাখ অনুৎপাদনশীল গরু পালার খরচ ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহন করতে হবে। এসব গরুর পেছনে বার্ষিক ২০ হাজার কোটি রুপি ব্যয় হবে এবং এতে ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পিপলস ডেইলি’র ওই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, গরু জবাইকে কেন্দ্র করে যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো দরকার। পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘হামলা থেকে রক্ষায়’ ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র। সম্পাদকীয়তে ২০১২ সালের গরুশুমারির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ভারতে ৫৩ লাখ মালিকবিহীন গরু, ষাঁড় ও মহিষ রয়েছে।

বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে পারছে না সরকার; ফসলহানি ও চাকরির ‍সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়াও ঠেকাতে পারছে না তারা। সরকারের এসব ব্যর্থতা থেকে ‘জনগণের চোখ সরাতেই’ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গরু রক্ষার প্রচারণা শুরু করেছে।

গরুর মাংস খাওয়া ও গরু পাচারের অভিযোগ তুলে মুসলমানদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পিপলস ডেইলি। সেইসঙ্গে ‘উগ্রপন্থিদের প্রশ্রয়’ দেয়ার জন্য বিজেপির মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানিয়েছে।

কয়েক মাস আগে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র প্রধান আশিষ মিত্র বাংলাদেশে গরু রফতানি বৈধ করে দেয়ার আহ্বান জানান। এতে সীমান্তরক্ষীরা অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন এবং অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের মতো বড় অপরাধ দমনে মনযোগ দিতে পারবেন তারা বলে যুক্তি দিয়েছেন তিনি। সীমান্তে গরু পাচার বন্ধ করা ‘অসম্ভব’ দাবি করে রফতানি বৈধ করে দেয়াই সরকারের জন্য ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএসএফ’র প্রধান।

আরও পড়ুন