বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেলের খবর নেই: জাতীয় পরিচয়পত্রের ঝামেলা শুরু

PayFixation_বেতন তুলতে জাতীয় পরিচয়পত্রঅষ্টম পে স্কেল এখনও কার্যকর হলো না, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে চলছে জটিলতা- এরই মধ্যে নতুন পে স্কেল পেতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নাম ও তথ্যের মিল থাকতে হবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এই প্রজ্ঞাপনের পর থেকেই ঘুম হারাম হয়েছে অনেকেরই। কারণ, চাকরির সময় দেওয়া তথ্য বা নামের বানানের সঙ্গে অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্রের মিল নেই। সবমিলিয়ে অনেকের জন্যই এটি একটি বাড়তি ঝামেলা তৈরি করেছে। এরা সবাই ভিড় করছেন স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরগুলোতে। রবিবার থেকেই তাদের শুরু হয়েছে দৌঁড়ঝাঁপ।

সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সুবিধার্থে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ পদ্ধতিতে সব সরকারি চাকরিজীবিকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্ধারিত একটি ওয়েবসাইটে লগ ইন করে নিজ নিজ বেতন নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ছক পূরণ করতে হবে বলে জানানো হয় পরিপত্রে। এ কাজে সবাইকে আবশ্যিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এনআইডি নম্বর ও এনআইডিতে দেওয়া জন্মতারিখ ব্যবহার করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে জানানো হয়, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ, নামের বানান ও অন্যান্য তথ্য চাকরির রেকর্ড থেকে ভিন্ন, তাদের বেতন নির্ধারণের আগে নিজ উদ্যোগে আবশ্যিকভাবে এনআইডি সংশোধন করে নিতে হবে।

যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের নিবন্ধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়, ‘নতুন বেতন স্কেলের আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর প্রজাতন্ত্রের সব চাকরিজীবীর বেতন নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয়, যা একটি দীর্ঘ, শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ প্রক্রিয়াকে আরো দ্রুত, সহজ ও নির্ভুল করতে একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।’

ডিসেম্বরের আগে হচ্ছে না পে-স্কেল: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ডিসেম্বরের আগে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা। সরকারের পরিকল্পনা ছিল চলতি অক্টোবর থেকেই এটি বাস্তবায়ন করা। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন সেটি অর্থবিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২৪ দিনের লম্বা সফর শেষে গত সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদও অর্থমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশের বাইরে ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা পে-স্কেলের ওপর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করছেন। এটি অনুমোদন দিয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। এর পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে আরও এক মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। ফলে ডিসেম্বরের আগে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবায়ন যখনই হোক না কেন কার্যকর দেখানো হবে জুলাই-২০১৫ থেকেই।

এদিকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বাড়ছে। এমন খবরে ইতিমধ্যেই দ্রব্যমূল্য বাড়তে শুরু করেছে। মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করলেও এর প্রভাবে শাক-সবজি, মাছ, মাংসসহ অন্যান্য সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা অনেকের জন্যই নাভিশ্বাস তৈরি করেছে। বাসা ভাড়া বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন বাড়ির মালিকরা।

অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবিতে। তবে তাদের এই আন্দোলন আমলে নিচ্ছেন না অর্থমন্ত্রী।

এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, ছোটখাটো কিছু বিষয় সংযোজন-বিয়োজনের কাজ থাকায় প্রজ্ঞাপনে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কবে নাগাদ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা হয়তো এখনই বলা যাবে না।

আরও পড়ুন