সংসদের বিরোধী দলকে ‘তথাকথিত’ বলে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কার্যকর সংসদ পেতে সবার অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
আজ রোববার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। বর্তমান সংসদের কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বর্তমান সংসদকে ‘পুতুলনাচের নাট্যশালা’ বলে উল্লেখ করে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। বক্তারা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদে জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে যেমন বিরোধী দলে আছে, তেমনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সরকারের মধ্যেও আছে।
বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় বিরোধী দল সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে টিআইবি জানায়, সংসদে বিরোধী দলের জোরালো ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে। আর এর মূল কারণ বিরোধী দলে থেকেও সরকারের প্রশংসায় ব্যস্ত থাকা এবং সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের সমালোচনা।
টিআইবির গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, বিরোধী দলের বর্তমান ভূমিকার কারণে নবম সংসদের তুলনায় বর্তমান দশম সংসদে ক্ষমতাসীন দলের প্রশংসা ১২ গুণ বেড়েছে।
টিআইবির গবেষণার ফলাফলে আরো বলা হয়, আইন প্রণয়নের যাচাই বাছাই এবং সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী দল ৮৫ শতাংশ সময় ব্যয় করে। কিন্তু আইন চূড়ান্ত করার ভোট দেওয়ার সময় নিজের প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিরোধী দল।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, বিদেশিদের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করার কথা সংবিধানে উল্লেখ করা হলেও স্বাক্ষরিত ২৫টি চুক্তি নিয়ে পাঁচটি সংসদ অধিবেশনের কোনোটিতেই আলোচনা হয়নি। বিরোধী দল ও সরকারের ভূমিকা প্রায় এক হওয়ায় সংসদে সমালোচনার চিত্রটিও অনেকাংশে পাল্টে গেছে। আগে নবম সংসদে যেখানে সংসদের ভেতরে প্রতিপক্ষের সমালোচনা হতো ৮০৪ বার। এখন সংসদের ভেতরে সংসদের বাইরের জোটের সমালোচনা হয় সাত হাজার ২৬৮ বার।


