টিকিট ছাড়াই ট্রেনে উঠেছিলেন যশোরের মুখ্য বিচারিক হাকিম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি টিকিটের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হলেও যশোর জংশনে নেমে হইচই শুরু করেন। এতে আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস যশোর থেকে ছেড়ে যেতে খানিকটা বিলম্ব হয়।
রেলওয়ে যশোরের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারক বলছেন, ‘তেমন কিছুই হয়নি’।
যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৭৬৩ আপ আন্তঃনগর ট্রেন ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ খুলনা স্টেশন থেকে রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। যশোর আসার জন্য ওই ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে উঠেন যশোরের মুখ্য বিচারিক হাকিম রফিকুল ইসলাম। টিকিট না কেটেই তিনি ট্রেনে উঠেছিলেন।
দায়িত্বরত ট্রাভেল টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) মো. জাহাঙ্গীর ওই যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে বিচারকের কাছ থেকে তিনি এক্সচেঞ্জ ফেয়ার টিকিট (ইএফটি) কেটে টিকিটের নির্ধারিত দাম ১৪৫ টাকা আদায় করেন। (ইএফটি নম্বর ৭০০৫৫৪)। বিচারকের পরিচয় পেয়ে তিনি অতিরিক্ত মাশুল আদায় করেননি; যদিও সে ক্ষমতা তার ছিল।
এই ঘটনায় মুখ্য বিচারিক হাকিম ক্ষিপ্ত হন। যশোর জংশনে নামার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু করেন। এ সময় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেল পুলিশের সদস্যরা প্লাটফরমে ছুটে গিয়ে বিচারককে শান্ত করেন। হই-হট্টগোলের কারণে চিত্রা এক্সপ্রেস যশোর থেকে ছেড়ে যেতে ১০-১২ মিনিট বিলম্ব হয়।
জানতে চাইলে রেলওয়ের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা বিচারকের সঙ্গে নিয়মমাফিক আচরণ করেছেন। টিকিট না কাটায় তার কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেছেন। বিচারকের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি।’
যশোর জংশনের মাস্টার মানিকচন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট টিটিই কোনো অনিয়ম করেননি। বিচারক অপমানিত হতে পারেন, এমন কোনো কাজ তিনি করেননি।’
জানতে চাইলে মুখ্য বিচারিক হাকিম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তেমন কিছু হয়নি।’ বিনা টিকিটে ভ্রমণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আবারও বলেন, ‘না, তেমন কিছু হয়নি’।


