দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের কথিত নির্দেশদাতা শুধু বড় ভাই নয়; তার পেছনে রাজনীতিকরাও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে এই রাজনীতিক কারা, তা প্রকাশ করেননি মন্ত্রী। বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণে খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন। তথ্য প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলেন, “ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে শুধু বড় ভাই আসল নয়, তার পেছনে যারা রয়েছেন, তারা রাজনীতিবিদ।
“সন্দেহভাজন কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”
ঢাকার গুলশানে ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার একদিন পরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তুললেন মন্ত্রী।
সোমবার চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে পুলিশ জানায়, পলাতক এক ‘বড় ভাই’য়ের নির্দেশে গ্রেপ্তার তিনজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি কাউকে হত্যা করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা।
সাম্প্রতিক বিদেশি হত্যা, পুলিশ হত্যা, আশুরায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে বোমাহামলা- সব ঘটনায় যোগসূত্র রয়েছে বলে আসছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে আলাদা ব্যক্তিরা থাকলেও কারণ একই জানিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র। আমাদের দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসাবে প্রমাণ করতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। দুই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা একই জায়গা থেকে হয়েছে।”
গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। তা মিলিয়ে দেখার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিএনপি আমলে একুশে অাগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কোনো ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজানো হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।


