বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেলের ফাইলে ফের কাটাছেঁড়া করবেন অর্থমন্ত্রী: নথি তলব

অষ্টম বেতন কাঠামো নিয়ে এবার ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেই। গেজেটের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ফাইল আবার নিজের টেবিলে চেয়েছেন তিনি। পে স্কেল নিয়ে নানা স্তরে ক্ষোভ ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তিনি ফাইলটি ফেরত চেয়েছেন। যদিও তার মৌখিক সম্মতি নিয়েই ফাইলটি অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব সহিদুল হককে নিজ দফতরে ডেকে ফাইল ফেরত পাঠানোর আদেশ দেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে অর্থসচিব মাহবুব আহমেদকে বেতন কাঠামো সম্পর্কে তার সুপারিশ বিষয়ে লেখা নথি তার (অর্থমন্ত্রী) কাছে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেই পুরো বেতনক্রম পর্যালোচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করার কথা। এর আগে আইনি মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠাতে হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল বেতন কাঠামো নিয়ে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন হবে। সে কমিটি গঠনও হয়েছে। এরই ফাঁকে অর্থমন্ত্রীকে না জানিয়ে বেতন কাঠামো সংক্রান্ত নথি মতামতের জন্য লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানো হয়। আর এ কাজটি করেছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলী। গত সোমবার বেশকিছু কর্মকর্তা তার কক্ষে হাজির হয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। কথা ছিল মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু তার আগেই প্রস্তাবটি গেজেট করার জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগে পাঠানোয় ক্ষোভ নিরসন তো দূরের কথা বরং একে আরো উস্কে দেয়া হলো।

সূত্রের খবর, সরকার ঘোষিত অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে এবার ক্ষুব্ধ খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার বহির্ভূত কর্মকর্তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। তারা ইতিমধ্যে সভা-সমাবেশে সে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। সরকারের কর্মচারী থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরাও ক্ষুব্ধ। তাদের মূল দাবি সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল।

অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল পুনর্বহাল না করে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া যায়—তা নিয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চাকরির চার বছর ও ১০ বছর পূর্তিতে একটি করে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন পদ পান না বটে কিন্তু ঊর্ধ্বতন পদের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এখন চিন্তা করা হচ্ছে যে, এ ধরনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চার বছরের সুযোগ বাদ রেখে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে দশ বছর পূরণ হলে ঊর্ধ্বতন পদের আর্থিক সুবিধা দেয়া যায় কী না। তবে এতে বড় বাধা সচিব কমিটি।

ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। সচিব কমিটি তা এবারেই প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। অর্থবিভাগও এটি বহাল রাখে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ অষ্টম বেতনক্রম মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের বেতন কিছুটা বাড়িয়ে দেন এবং সেভাবেই অনুমোদিত হয় অষ্টম বেতনক্রম।

নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করার কথা। এর আগে আইনি মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠাতে হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল বেতনক্রম নিয়ে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন হবে। সে কমিটি গঠনও হয়েছে। এরই ফাঁকে অর্থমন্ত্রীকে অজ্ঞাত রেখে বেতনক্রম সংক্রান্ত নথি মতামতের জন্য লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানো হয়। আর এ কাজটি করেছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলী। তাই গেল সোমবার বেশকিছু কর্মকর্তা তার কক্ষে হাজির হয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনক্রম ঘোষণা করা হয়। কথা ছিল মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন