দুই বিদেশি হত্যায় বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া বক্তব্যকে আজগুবি, কাল্পনিক ও অসত্য বলে দাবি করেছে বিএনপি। তারা বলছে, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে এবং হত্যাকান্ডের মোটিভ ও খুনিদের বিচার করাও সম্ভব হবে না। বিরোধী দলকে সন্ত্রাসী সাজানোর নিছক ব্লেম গেম খেলা বন্ধ করুন।
বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, বিএনপি হত্যা-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। অথচ বিএনপির কোন কোন নেতার নাম জড়িয়ে সরকারের তরফ থেকে যেসব আজগুবি, কাল্পনিক ও অসত্য অভিযোগ করা হচ্ছে-তাতে সত্যের লেশমাত্রও নেই।’
রিপন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে দু’জন বিদেশির খুনের ঘটনার সঙ্গে শুরু থেকেই সরকারের তরফ থেকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল। সে প্রেক্ষাপটে বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা আব্দুল কাইউম ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকে জড়িয়ে যে প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে-তাতে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে এবং হত্যাকান্ডের মোটিভ ও খুনীদের বিচার করাও সম্ভব হবে না।’
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিএনপির কোনো নেতার এই হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর প্রশ্নই উঠবে না বলেও মনে করেন রিপন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে তখন সেই দাবিকে পাশ কাটানোর লক্ষ্যে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং দলের নেতাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার একটি অপচেষ্টা শাসকদলের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
বিদেশি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিএনপির নেতাদের জড়িয়ে ‘মনগড়া প্রতিবেদন’ প্রকাশিত হচ্ছে অভিযোগ করে দলটির মুখপাত্র বলেন, ‘বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে যে প্রতিবেদন ছাপা হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি। এসব প্রতিবেদনে একজন কথিত বড় ভাইয়ের হুকুমদাতা হিসেবে উল্লেখ করার পর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, বিএনপি নেতা কাইয়ুম সেই বড় ভাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বে জানানো আশঙ্কাই প্রমানিত হলো যে, সরকার বিদেশি খুনে বিএনপির কোন কোন নেতার নাম জড়িয়ে দলটিকে হয়রানি করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেটি আরো স্পষ্ট হলো।’
কোন চোরাগলি, ষড়যন্ত্রের পথ বেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার নীতিকে ঘৃনা করে জানিয়ে রিপন বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী নীতির প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক পন্থায় করে থাকে। শুধু অবাধ ভোট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে এবং ভবিষ্যতেও একই পন্থায় ক্ষমতায় আসতে চায়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি তার প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আসছে। অথচ শাসকদল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দেশে-বিদেশে ভিন্নভাবে বিকৃত করার অপপ্রয়াস নিয়েছে।’
বিএনপি শুরু থেকেই এই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়েছে, এই হতাকা- যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার উদ্দেশ্যে অপব্যবহার না করা হয়। কিন্তু সরকার ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকান্ডে তাদের চিরায়ত অভ্যাস অনুযায়ী অপরাজনীতিরই আশ্রয় নিলেন, যা অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিপন বলেন, ‘নিছক ব্লেম গেম খেলে বিরোধী দলকে সন্ত্রাসী সাজানোর খেলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিতকে ক্রমেই কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ব্লেম গেম খেলা বন্ধ করুন। বিরোধী দল ও তার নেতৃত্বকে সন্ত্রাসী সাজানোর অপচেষ্টা অপরাজনীতির বিষবৃক্ষকেই শুধু শক্তিমান করবে, তাতে সরকার সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারেন বটে, কিন্তু এ দেশের মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অর্জন তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দলমত-ধর্ম নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে কোন সংকীর্ণ দলবাজী নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার নীলনকশা থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহবান জানাই।’


