বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

১ নভেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাচ্ছে ১৫টি পরিবার

Sitmahal_বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরের ছিটমহলে এতোদিন বাস করে এখন নতুন ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে যাওয়া বাসিন্দাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা প্রশাসন। আগামি ১ নভেম্বর থেকে ভারতে যাবেন ভারতীয় ছিটমহলের ৯৮৭ জন বাসিন্দা। তবে প্রথম ধাপে ১৫ পরিবারের ৩০ জন মানুষ এদেশে পাকাপাকি ভাবে আসবেন। আগামী রবিবার তারা চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাবেন। তাদের স্বাগত জানাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন।

গত ১ আগস্ট থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ১৬২ টি ছিটমহল বিনিময় সম্পন্য হয়। তার আগে প্রায় ৫২ হাজার ছিটমহল বাসি কোন দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান , তা জানতে সমীক্ষা করে দুই দেশের যৌথ সমীক্ষাকারি দল। সেই সমীক্ষায় জানা যায়, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহল গুলির প্রতেকেই ভারতের নাগরিকত্ব নিতে চান , অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহল গুলির ৯৮৭ জন মানুষ , ভারতীয় নাগরিকত্ব নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর শুরু হয় তাদের ভারতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া।

ইতিমধ্যেই দিনহাটা , মেখলিগঞ্জ , হলদিবাড়িতে নতুন ভারতীয় নাগরিক হতে চলা মানুষদের আপাত পূনঃর্বাসন এর ব্যবস্থা করা হয়েছে , সেখানে বিদ্যুৎ , পানীয় জল ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি সিন্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে তাদের জন্য খাবার দাবারের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। তবে আপাতত ১ মাসের জন্য এই ব্যবস্থা চালু থকবে, প্রয়জোনে এই ব্যবস্থার সময় বাড়নো হতে পারে। জেলার সাহেবগঞ্জ, চ্যাংরাবান্ধা, হলদিবাড়ির সীমান্ত দিয়ে এই সব মানুষরা প্রবেশ করবেন। ১ নভেম্বর প্রথম দলটিকে স্বাগত জানাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন জেলাশাশক পি. উল্গানাথন।

এই দিন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এই উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্টানের । প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে প্রথমদলটির জন্য মেখলিগঞ্জের ভোটবাড়ি এলাকায় নির্মিত পুনঃর্বাসন কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

বিষয়টি নিয়ে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্ময় কমিটির কোওর্ডিনেটর দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন , আমাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি, যেমন যারা বাংলাদেশর বিভিন্ন স্কুলে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক সমতুল পরীক্ষা দেবে তাদের কি হবে, যারা জমি ছেড়ে আসছেন তাদের ক্ষতিপূরণ কি দেওয়া হবে, আর কত দ্রুত তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে , এই সব বিষয় গুলি দ্রুত পরিস্কার করুক সরকার।

জেলা শাসক পি. উল্গানাথন জানিয়েছেন, যারা আসছেন তাদের যাতে কোনরকম অসুবিধা না হয় সেই দিকে নজর রাখছে প্রশাসন, আগামি ১ নভেম্বর যারা আসবেন তাদের জন্য বিশেষ অনুষ্টানের আয়োজন করেছি আমরা। এদিকে, সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলগুলিতে ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র আধার কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ভাবে।

আরও পড়ুন