মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার চেয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গণজাগরণ মঞ্চের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকামীদের বিচার চাইলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।” অবিশ্বাস্য মনে হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের ৪৪ বছর পর এসে ঠিক এই ভাষায়ই মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধাদের আক্রমণ করেছে মানবাধিকারের নামে যুদ্ধাপরাধী দানবদের অধিকার রক্ষায় ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সংগঠন Amnesty International।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের শুরু থেকেই দাতাদের ঋণের উপর নির্ভর করে চলা এই সংগঠনটি সেইসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর বাঁচানোর জন্য উঠে পড়ে লাগে এবং তার অংশ হিসেবে নানা সময় মিথ্যা, বানোয়াট, ধৃষ্টতাপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করে আসছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় আদতে তারা কোনো মানবাধিকার রক্ষার সংগঠন নয়, প্রভাবশালী কুখ্যাত দানবদের বাঁচানোর এজেন্ডাপ্রাপ্ত একটি দানবাধিকার সংগঠন।
বিচারপ্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে যখন দুই কুখ্যাত মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে রায় কার্যকরের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি এবার কোনো রাখঢাক ছাড়াই নেমেছে এদের বাঁচানোর মিশন নিয়ে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ন্যাক্কারজনক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এর প্রতিবাদে নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেঃ
১) ৩০ অক্টোবর ২০১৫, শুক্রবার বিকাল চারটায় প্রজন্ম চত্বর, শাহবাগ থেকে বিক্ষোভ মিছিল।
২) আগামী ২ নভেম্বর ২০১৫, সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ওয়েস্ট লন্ডনে Amnesty International এর মূল কার্যালয়ের সামনে গণজাগরণ মঞ্চ, যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ।
গণজাগরণ মঞ্চের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে গৌরবময় অর্জন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতীয় গর্ব। Amnesty International এর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ প্রত্যেক বাংলাদেশীর নৈতিক দায়িত্ব। গণজাগরণ মঞ্চ সকলের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর এই ধৃষ্টতার প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানাচ্ছে।
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রিয়াজুল আলম ভুঁইয়া এই বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন।


