মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, সুইডেন থেকে।
একসময়ের শান্তির দেশ সুইডেন আজ চলছে কোন পথে? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নিরপেক্ষতার ভূমিকায় থেকে দেশটি তার অর্থনৈতিক চাকাকে দ্রুত উন্নতির শিখরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। যদিও একসময় অনেক সুইডিশকে দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জাহাজে করে চাকুরীর সন্ধানে শুধুর আমেরিকায় পর্যন্ত পাড়ি দিতে হয়েছিল। এসম্পর্কে সুইডেনের বিশ্ববিখ্যাত চলচিত্র পরিচালক ইংমার বারিমান দেশান্তর নামে একটি ছবি নির্মান করেছিলেন যার নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নরেজিয়ান হলিউড অভিনেত্রী লিভ উলমান। ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি ইংমার বারিমানের প্রেমে পরে অবশেষে তাকে বিয়েও করেছিলেন। আঠারশ শতাব্দীর সেই দরিদ্র সুইডেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এগিয়ে আসে সামনের দিকে। এইসময় দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে দ্রুত এগিয়ে নিতে গিয়ে দেখা দেয় শ্রমিক ঘাটতি। আর এই শ্রমিক ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে ফিনলেন্ড, গ্রিস, তুরস্ক, ইতালি ও যুগোস্লাভিয়া থেকে প্রচুর শ্রমিক নিয়ে আসা হয়। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পর শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সুইডেন বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে আসে। যুদ্ধের পর পর একটানা প্রায় ৪২ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশের সর্ববৃহত রাজনৈতিক দল সোসিয়াল ডেমোক্রেট লেবার পার্টি দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তোগে এরলান্দারের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আসতে সক্ষম সামর্থ হয় দেশটি।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতই সুইডেনের জনসংখা বৃদ্ধি না পাওয়াতে দেশটি ধীরে ধীরে অভিবাসীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে। সত্তর দশকে শেষের দিকে সুইডেনের জনসংখা ছিল মাত্র আশি লক্ষ। অতিরিক্ত অভিবাসী প্রবেশের কারণে এখন দশ মিলিয়নের একটু বেশিতে এসে দাড়িয়েছে। অভিবাসীদের আগমন সুইডেনের অর্থনীতিতে একটা বড় অবদান রাখলেও বৰ্তমানে অতিরিক্ত বেকার সমস্যা ও গৃহ সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে সুইডিশরা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মতামত প্রকাশ করছে। ধীরে ধীরে তাদের বহিরাগত বিরোধী এই মতামত স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বর্তমানে সুইডেনের জাতীয় সংসদে বহিরাগত বিরোধী রাজনৈতিক দল সুইডিশ ডেমোক্রেট এর অবস্থান তৃতীয়। জাতীয় সংসদে ২০১৪ নির্বাচনে দলটি ৪৯ আসন লাভ করে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে যে এই মুহুর্তে নির্বাচন হলে দলটির আরো বেশি আসন লাভের সম্ভবনা রয়েছে। একমাত্র বহিরাগত সমস্যাকে বড় করে তুলে ধরে সুইডিশ ডেমোক্রেটের জনপ্রিয়তা দিন দিন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে চলতি বছর হটাত করে সিরিয়া থেকে আগত শরনার্থীরা এই সমস্যাকে আরো ঘোলাটে করে ফেলেছে। সিরিয়া থেকে ইউরোপে আগত এসকল শরণার্থীদের সংকট সমাধানের আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপে আসা সিরিয়ান শরণার্থীরা সারা ইউরোপের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউরোপের প্রতিটি দেশেই এখন ইমিগ্রান্ট বিরোধী কন্ঠ রাজনীতিতে সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে। গত ২৫ অক্টোবর রবিবারে অনুষ্ঠিত পোলান্ডের জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রভাব পরেছে।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার সুইডিস ইমিগ্রেশন এক সাংবাদিক সন্মেলনে বলেছে যেভাবে সিরিয়া থেকে শরনার্থী আশা শুরু হয়েছে এভাবে আসতে থাকলে আগামীতে সুইডেনে প্রায় এক লক্ষ্ ত্রিশ হাজারের মতো শরনার্থী প্রবেশের সম্ভবনা রয়েছে। সুইডেনের পক্ষে এত বেশি শরনার্থীর বেবস্থা করা কঠিন হয়ে দাড়াবে। অন্যদিকে একইদিন ক্ষমতাসীন রেড গ্রিন জোটের মাইনোরিটি সরকার ও ডানপন্থী বিরোধী জোট যাদের প্রকৃত সমস্যা আছে সে ধরনের শরনার্থীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে বসবাসের অনুমুতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুইডিশ লেফট পার্টি এই অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে সুইডিশ ডেমোক্রেট শরণার্থী প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য কঠিন আইন পাশের পক্ষে মতামত প্রকাশ দিয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে সুইডেনে বর্তমানে আনুমানিক ১২ হাজার বাঙালি বসবাস করছে। তবে এদের মধ্যে কাজের বিনিময়ে অস্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ছাত্র ছাত্রীও রয়েছে। এছাড়া বেআইনিভাবে একশতেরও বেশি বাঙালি এদিক ওদিক লুকিয়ে বসবাস করছে।
অনেকে মনে করছেন সুইডিশ ডেমোক্রেটের কারণেই মূলত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে দিন দিন একটা ঘৃনা সুইডিশদের মধ্যে বেড়ে উঠছে। বিশেষ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা আক্রোশ ধীরে ধীরে সুইডিশদের মধ্যে জেগে উঠছে যা ভবিষ্যতে ভওয়ানক রূপ ধারণ করার সম্ভবনা রয়েছে। সুইডেনে বর্তমানে প্রায় সাত লক্ষের মতো মুসলমান বসবাস করছে। ইদানিং কে বা কাহারা সুইডেনের বিভিন্ন উদ্ভাস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ও মসজিদে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। ২৪ অক্টোবর মিডিয়ায় সুইডেনের পুলিশ প্রধান উদ্ভাস্থদের আশ্রয়স্থলে পুলিশের বিশেষ নজরে রাখার কথা বেক্ত করেছেন এবং এজন্য তিনি সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছেন। বহিরাগতদের জন্য সৃষ্টি সমস্যাগুলোকে সুইডিশ ডেমোক্রেট রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বেবহার করছে এবং তাদের অপপ্রচারের স্বীকার হয়ে তরুণ সমাজ বেছে নিচ্ছে ভয়ংকর পথ। এমনি এক ভয়ংকর পথে এগিয়ে আসলেন সুইডেনের ট্রলহেত্তান শহরের ২১ বছর বয়সের এক তরুণ। গত ২২ অক্টোবর বৃস্পতিবার একটি তলওয়ারের মতো ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের উপর হামলা চালান। পুলিশ এই হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছে।
আন্তন লুন্দিন পেটারসন নামের ২১ বছর বয়সের এক যুবক কালো মুখোশ পরিহিত অবস্থায় সুইডেনের বৃহত্তম দ্বিতীয় শহর গুটেনবর্গের নিকটে ট্রলহেত্তান শহরের একটি স্কুলে আক্রমন করে। ২২ অক্টোবর আনুমানিক সকাল দশটার দিকে এই হামলায় প্রাথমিক অবস্থায় হামলাকারী যুবক দুজন বেক্তিকে হত্যা করে এবং পরবর্তিতে পুলিশের গুলিতে সে নিজেও প্রাণ হারায়। আন্তন লুন্দিন পেটারসন নাত্সী জার্মানিকে পছন্দ করতেন। গত ২১ অক্টোবর বুধবার শেষবারের মতো তিনি তার ফেইসবুকে হেভিমেটাল সুরকার রব জোম্বির একটা লিংক দিয়েছিলেন। তিনি ইউটিউব চ্যানেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং নাৎসিবাদ চলচিত্র দেখার প্রতিও আগ্রহ ছিলেন। অন্যদিকে তিনি কারিগরি বিদ্যায় দক্ষ ছিলেন। সুইডেনের জাতীয় যুব কারিগরি প্রতিযোগিতায় ফাইনাল পর্যন্ত এসেছিলেন। এছাড়া তিনি বর্ণবাদ আদর্শ ও অভিবাসী বিরোধী সুইডিশ রাজনৈতিক দল সুইডিশ ডেমোক্রেট নেতা জিম্মি অকেসন এর বিতর্ক পছন্দ করতেন। সেইসাথে অভিবাসন-সমালোচনামূলক ব্লগার অ্যাংরি ফরেনার এবং “নাৎসি জেনারেটর ২০১৫” নামে একটি ভিডিও দেখা ছিল তার পছন্দ। এই ছবিতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান মার্চ সঙ্গীতের সাথে খেলনা মানুষ (ইহুদীদের)পুড়ানো ছবির দৃশ্য দেখানো হতো।
আন্তন লুন্দিন সুইডেনে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়া ইন্টারনেটে চরম ডানপন্থী লেখকদের লেখা পছন্দ করতেন। তিনি হিটলারের যুদ্ধ ট্যাংক সম্পর্কিত ছায়াছবি ইউটিউব এ লাইক করতেন। সুইডেনে অভিবাসন বন্ধ কর- নামকরণের ফেইস বুকে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলেও জানা যায়। হত্যাকারীর মধ্যে একটি চরম ডানপন্থী মোটিভ কাজ করেছে বলে পুলিশ মনে করছে। আন্তন লুন্দিন পেটারসন পছন্দ করতেন জার্মান রক ব্যান্ড রামস্টেইন যার এলবামের কোভারে নাত্সি চিহ্ন থাকে।
আন্তন লুন্দিন পেটারসন ট্রলহেত্তান শহরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং এখানে একটি ফ্লাটে একা বসবাস করতেন। ট্রলহেত্তান শহরেই তিনি স্কুল ও কলেজ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তবে এর আগে আন্তন কোনো অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে। ক্রনান নামের এই স্কুলে ক্লাস নাইন পর্যন্ত শিক্ষা দান করা হয় এবং এই স্কুলে বিদেশে জন্ম নেওয়া ছাত্র ছাত্রীর সংখাই ছিল বেশি। এখানে উল্লেখযোগ্য যে সুইডেনে স্কুল শিক্ষা শেষ হয় ক্লাস নাইনে। তারপর তিন বছর কলেজ। সুইডেনে স্কুল শিক্ষা বাধ্যতামূলক।
গত ২৩ অক্টোবর বৃস্পতিবার আনুমানিক সকাল দশটা দশের দিকে পুলিশের কাছে অ্যালার্ম আসে। এখানে বলা হয় যে একজন সশস্ত্র বেক্তি স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ক্লাসরুমে ছুটাছুটি করছে। তার মুখে কালো মুখোশ। পুলিশ সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অপরাধী স্কুলের দ্বিতীয় তালায় আশ্রয় নেয়। এইসময় পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তা অপরাধীর বুকে লাগে। পরবর্তিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি সেখানে মারা যান। ঘটনা স্থানে একজন ছাত্র ও একজন শিক্ষক মির্তুবরণ করে। ঘটনায় মোট তিনজন বেক্তিকে প্রাণ হারাতে হয়। এছাড়া গুরুত্বর আহত দুজন ছাত্র বর্তমানে হাসপাতালে মির্তুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ক্লাস ওয়ান থেকে নাইন পর্যন্ত মোট ৪০০ ছাত্রছাত্রী এই স্কুলে পড়াশুনা করে। বহিরাগত বিরোধী বলেই হত্যাকারী অভিবাসী ঘন এই স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে এই দিনকে সুইডেনের জন্য একটি কালো দিন বলে আখ্যায়িত করেন।
সুইডেনে স্কুলগুলোতে এধরনের ঘটনা সচরাচর না ঘটলেও আমেরিকাতে প্রায় ঘটে থাকে। এই কারণে সে দেশের গবেষকরা দেশের স্কুলগুলোতে বিভিন্ন গণহত্যার পিছনে কি কারণ থাকতে পারে তা বের করতে গিয়ে বলেছেন, তিনটি বিষয় এখানে কাজ করতে পারে। এক মানসিক বিপর্যয়, দুই মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ও তিন মনোবিকারগ্রস্ত। কিন্তু গত ২২ অক্টোবর বৃস্পতিবার সুইডেনের ট্রলহেত্তান শহরের স্কুলে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে হত্যাকারী এই তিনটি কারণের একটিতেও পরে না বলে জানা গেছে। আমেরিকার এই গবেষণাতে আরোও বলা হয়েছে যে সাধারণত সংসারে পারিবারিক সমস্যা, পরিবারে মা বাবা ডিভোর্স এবং তারা নিজেরাই অপরাধ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে এমন হলেও কারো মানসিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভবনা দেখা দিতে পারে। এবেপারে খোজ নিয়ে দেখা গেছে ২১ বছর বয়সের এই হত্যাকারী তার মা, বাবা ও দুই সহোদর সঙ্গে একটি ভালো নিরাপদ আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।
আন্তন লুন্দিন পেটারসন বেশিরভাগ সময় তার ফ্লাটে কম্পিউটারের সামনে বসে সময় কাটাতেন বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের মতে বহিরাগত বিরোধী একটি ঘৃণা এই অপরাধের পেছনে কাজ করেছে। পুলিশের কমান্ডার চিফ নিকলাস হেলগ্রেন স্থানীয় সান্ধ দৈনিক আফতনব্লাদেতের সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেন, আমরা মনে করি এই অপরাধ মোটিভের পেছনে বিদেশী বিরোধী একটি ঘৃণা কাজ করেছে। এই স্কুলের বেশিরভাগ স্থানীয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্ম সুইডেনের বাহিরে।
একসময়ের শান্তি ও মানবতার দেশ বলে সুপরিচিত সুইডেনের ভবিষ্যত নিয়ে এখন সকলেই আতঙ্কিত। যদিও ইতিমধ্যেই এই হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে বলতে গেলে সকলেই রুখে দাড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে মোমবাতি জালিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে জানানো হচ্ছে সমবেদনা। অন্যদিকে বর্ণবাদী রাজনৈতিক দল সুইডিশ ডেমোক্রেট তাদের ওয়েব সাইডে সুইডেনের সকল শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ঠিকানা প্রকাশ করেছে। অনেকে মনে করছেন দলের আদর্শের প্রতি আনুগত্যদের দাড়া আক্রমন করার সুবিধার্থেই তারা মূলত এই কাজ করেছে। তবে দলের মুখপাত্র তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো একসময়ের শান্তি ও মানবতার দেশ বলে পরিচিত সুইডেন কি পারবে ধরে রাখতে তাদের এই আত্বপরিচয়? পর্যবেক্ষক মহলের মতে সুইডিশ ডেমোক্রেট দলের জনপ্রিয়তা ঠেকানোর জন্য সুইডেনকে অবশ্যই বহিরাগত আগমনের বিষয়ে নুতন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। প্রয়োজনে বহিরাগত আইনকে কিছুটা হলেও কঠোর করা জরুরি হয়ে পরেছে। এভাবে শরণার্থী সুইডেনে প্রবেশ করতে থাকলে সুইডেনের ভবিষ্যত অন্য রূপ ধারণ করতে পারে যা আরো আন্তন লুন্দিন পেটারসন সৃষ্টি করার সুযোগ করে দিবে বলে অনেকেই মনে করছেন। শান্তির দেশ সুইডেনে এখনো অনেক অভিবাসীরা বাস করছে নিরাপদে। দেশের বর্তমান জাতীয় সংসদে সুইডেনের বাহিরের ২৯ দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারে রয়েছে ইউরোপের বাহির থেকে আসা কয়েকজন মন্ত্রী। এদের মধ্যে তিনজন মুসলমান। শান্তি ও মানবতার দেশ সুইডেন সবসময় বিশ্বে তার আত্ব পরিচয়ে মাথা উচু করে থাকবে এটাই আমাদের কামনা।
লেখক: সুইডিশ রাজনীতিবিদ


