বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অভিজিতের প্রকাশক টুটুল ও ব্লগার রহিমের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

publisher tutulরাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় জখম প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, দুই ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসু ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। টুটুলের সঙ্গে থাকা ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকে কোপানো হয়। রহিমের কোমরে গুলির জখমও রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর ঢাকা মেডিকেলের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের সার্জন কে এম রিয়াজ বিকাল ৫টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “টুটুল ও তারেকের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। রণদীপম আশঙ্কামুক্ত।”

শনিবার বেলা ৩টার দিকে লালমাটিয়া সি-ব্লকের ৮/১৩ নম্বর বাসায় অবস্থিত শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল, দুই ব্লগারকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা।

গত ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার বাইরে প্রবাসী লেখক অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যার সঙ্গে জঙ্গিরা সংশ্লিষ্ট বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’সহ কয়েকটি বই বের করেছে শুদ্ধস্বর। তাদের কার্যালয়ে হামলায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে অভিজিৎ নিহত হওয়ার পর ফেইসবুকে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে টুটুল মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে প্রকাশক টুটুলসহ কয়েকজন ছিলেন ওই কার্যালয়ে। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে হানা দেয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

বিকাল সোয়া ৩টার দিকে লেখক রণদীপম বসু ফেইসবুকে লেখেন, “কুবাইছে (কুপিয়েছে), আমি টুটুল ভাই আর তারেক।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন জানান, দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে চলে যায়। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে।

ভেতরে আটকা পড়া ওই তরুণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তারা (হামলাকারী) ছিল তিনজন। তারা ঢুকেই বলেছিল, আমরা টুটুলকে মারতে এসেছি। তাকেসহ অন্যদের অস্ত্রের মুখে পাশের কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। নক করা হলে দরজা খুলে দেওয়া হয়। একজন ঢুকে বলে যে সে বই নিতে এসেছে। তাকে ঢুকতে দিলে বলে, ‘আমার এক ভাই আছে’। এরপর দরজা খুললে তিনজন একসঙ্গে ঢোকে। এদের একজন স্বাস্থ্যবান। একজনের হালকা দাড়ি ছিল। যার হাতে পিস্তল ছিল, তার ১৬-১৭ বছর বয়স।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে যে ঢুকেছিল তার কাছে কালো ব্যাগ তি। সেখান থেকে চাপাতি বের করে। আমাদের অন্য ঘরে জিম্মি করে রাখে। পরে কুপিয়ে তালা লাগিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় গুলির শব্দ শুনি।”

শুদ্ধস্বরের কার্যালয় ভবনের সামনের একটি দরজি দোকানের কর্মচারী বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা ওইদিকে খেয়াল করে দেখি একটি মোটর সাইকেলে করে তিনজন দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন