মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, সুইডেন থেকে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করায় এখন অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করে চলেছেন। আসলে কে এই শমশের মবিন চৌধুরী? হঠাৎ করে বিএনপি থেকে কেন তার এই পদত্যাগ? একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে একসময় ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্বেও তিনি কেন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হলেন? তার অতীত সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?
সবকিছু না জেনে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা ধরনের সত্য-মিথ্যা মন্তব্য করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? জনৈক বুদ্ধিজীবী পরোক্ষভাবে মিডিয়ায় বলেই ফেললেন কোনো চাপের মুখে যদি তিনি পদত্যাগ করে থাকেন তাহলে রাজনীতির জন্য ভালো নয়। হঠাৎ করে তিনি এই চাপের ইঙ্গিত কোথায় খুঁজে পেলেন? শমশের মবিনের পদত্যাগ নিয়ে যে যে কথাই বলুক না কেন আমি বলবো তার পদত্যাগ তিনি নিজে একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ শারীরিকভাবে তিনি বেশ অনেক দিন থেকেই অসুস্থ। দ্বিতীয়ত হতে পারে বিএনপির বর্তমান রাজনীতি ও আগামী নেতৃত্বের সাথে তার অনাস্থা।
শমসের মবিন চৌধুরীর বাসা বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধানমণ্ডি ৩২ নাম্বার রোডের খুব কাছেই ১৬ নাম্বার রোডে। পাকিস্তা আমলে এই বাসায় থেকে তিনি পড়াশুনা করেছেন। তবে এখন তিনি আর সেখানে থাকেন না।
শমশের মবিন চৌধুরীর ডাক নাম ‘শেহেরু’। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার সর্ব কনিষ্ঠ ভাই শাহানের সাথে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ভাইয়ের ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্টতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই দেখেছেন তাদের এই বন্ধুত্বতা। বলতে গেলে তারা সবসময় একসাথেই চলতেন। ১৯৭৪ সালের ষোলই ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে কামাল ভাই যখন গুলিতে আহত হয়েছিলেন তখন সাহানও আহত হন। ওই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আমরা উপস্থিত ছিলাম। কামাল ভাই গুলিতে আহত হয়েছেন শুনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে হাজির হই। গিয়ে দেখি শাহান (শমসের মবিনের ভাই) , মনির, বরকতসহ আরো একজন গুলির আঘাতে কাতরাচ্ছিলেন। এরা সকলেই কামাল ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
শমসের মবিন চৌধুরীর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় ষাটের দশকের শেষ দিকে। তিনি তখন পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে লেফটেনেন্ট ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ তৎকালীন বাংলাদেশে চলছে তখন স্বাধীনতার আন্দোলন। চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনে ছিল আমাদের বাসা। এখানেই বেড়াতে আসতেন তিনি। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট শমশের মবিন দেখতে খুবই আকর্ষনীয়, স্মার্ট ও সাহসী ছিলেন। তিনি আমার থেকে বয়সে অনেক বড়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কারণে ওই সময় রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলতেন না তিনি। তবে মনে হয়েছে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে তার ভেতরে ছিল প্রচন্ড এক নিরব প্রতিবাদ। ওই সময় আসলে কি হতে যাচ্ছে, কি হতে পারে এধরনের একটা চিন্তা ভাবনা সকলের মাঝে কাজ করছিল। শমশের মবিনের সাথে যোগাযোগে মনে হয়েছে তিনি কোনো কিছু করার জন্য যেন প্রস্তুত হয়েই আছেন। লেফটেন্যান্ট শমশের মবিনের সেদিনের সেই চেহারার কথা আমার এখনো মনে পরে।
১৯৭১ সাল। আমি তখন চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন স্কুলে এস এস সি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। শমসের মবিন চৌধুরী এইসময় চট্টগ্রামে মেজর শওকত এর অধীনে সেনাবাহিনীতে ছিলেন। অনেকে বলে তিনি ওই সময় মেজর জিয়ার অধীনে একই গ্রূপে ছিলেন। আসলে তা সঠিক নয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন মার্চের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রাম আক্রমন করে তখন শমশের মবিন চৌধুরী মেজর শওকতের নেতৃত্বে রিভোল্ট করেছিলেন। হাতে অস্ত্র নিয়ে হানাদার পাকিস্থানি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি ঝাপিয়ে পরেছিলেন। আমরা তখন দামপাড়া পুলিশ লাইন ছেড়ে চট্টগ্রাম পাকশেল কোম্পানির জি এম জুনেদ চৌধুরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কাতলগঞ্জের গুলফিশান নামক একটি দোতলা বাড়ীতে এসে আশ্রয় গ্রহণ করি। তিনি এখন ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৮ নাম্বর সড়কের একটি দোতলা বাসায় বসবাস করেন। দোতলা বলার কারণ ধানমন্ডিতে এখন আর আগের মতো একতলা দোতলা বাসা সাধারণত চোখে পরে না । ঢাকা গেলে ১৮ নাম্বারের এই বাসায় আমরা সবসময় যেতাম।
যে কথা বলছিলাম। চট্টগ্রামে পাক হানাদার বাহিনী আক্রমন করলে মেজর শওকতের নেতৃত্বে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে এক সময় তিনি চকবাজারের কাছে চলে আসেন। এখান থেকে হঠাৎ জুনেদ চৌধুরীর কাছে ফোন করে জানালেন, তিনি এখন চকবাজারের আশেপাশে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। আরোও জানালেন যে তিনি এখন মেজর শওকত সহ অন্যান্য যোদ্ধাদের সাথে কালুরঘাট রেডিও স্টেশন রক্ষা করার জন্য যাচ্ছেন। পরে টেলিফোন করবেন বলে ফোন রেখে দিলেন। কাতলগন্জের পাশেই চকবাজার। আমাদের বাসার বারান্দা থেকেই দেখতে পেলাম পুরো বাজার দাউ দাউ করে আগুনে জলছে। স্বাভাবিকভাবেই সকলেই শমসের মবিন চৌধুরীর জন্য চিন্তিত হয়ে পড়লো। এর মধ্যে অনেক সময় পার হয়ে গেল। একদিন দুদিন পার হওয়ার পর কোনো টেলিফোন নেই। একসময় ধরে নেওয়া হলো তিনি আর জীবিত নেই বলে। এর মাঝে হঠাৎ করে চট্টগ্রাম বেতারের মহাপরিচালক কাহার চৌধুরীর টেলিফোন এলো। কাহার চৌধুরী প্রখ্যাত লেখিকা বেগম সুফিয়া কামালের মেয়ের জামাই। তিনি সম্পর্কে আমাদের নানা। তার ডাক নাম তারা। আমরা ওনাকে তারানানা বলেই ডাকতাম। তারা নানা টেলিফোন করে জুনেদ চৌধুরীকে বললেন কিছুক্ষণ পর রেডিও শোনার জন্য। শেহেরুর কথা আছে আর বেশি কিছু না বলে টেলিফোন রেখে দিলেন।
একটু পর রেডিওতে ভেসে এলো সমশের মবিন চৌধুরীর কন্ঠ, আমি লেফটেন্যান্ট শমশের মবিন চৌধুরী বলছি। মেজর শওকত আপনি যেখানেই থাকুন আত্বসমর্পন করুন। পাক সেনারা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করছে ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু যা এখন আমার মনে পরছে না। কিছুক্ষণ পর পর এই রেকর্ডটি তখন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বাজানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে তারানানা বাসায় এসে জানালেন যুদ্ধ করতে করতে একসময় শেহেরুর পায়ে গুলি লাগে। সে প্রচন্ডভাবে আহত হয়ে পাক সেনাদের হাতে ধরা পরে। টর্চার করে তারা তার একটি পা কেটে ফেলেছে। সে এখন পাক সেনাদের হাতে বন্দী। এভাবেই যুদ্ধের পুরোটা সময় পাক সেনাদের হাতে বন্দী ছিলেন শমশের মবিন চৌধুরী। শুধু বন্দী নয় এই সময় পাক সেনাদের হাতে অমানবিক টর্চারের শিকার হয়েছিলেন যুদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পর তার এই সাহসিকতার জন্য তিনি বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সরকার তার পায়ের চিকিৎসার জন্য তাকে ইস্ট বার্লিন পাঠায় এবং মেজর পদে প্রমোশন দিয়ে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করে। সব কিছুই হয়েছিল সরাসরি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।
১৯৭৫ সালের শেষ দিকের কথা। আমি তখন জেনারেল জিয়ার সামরিক সরকারের হয়রানির শিকার। নেতা কর্মীরা অনেকেই তখন ময়মনসিহি নেত্রকোনার পাহাড়ে কাদের সিদ্দিকী ও সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য যুদ্ধ করছে। ঢাকা থেকে তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ করছিলাম। এইসময় একদিকে দলীয় কোন্দল আর অন্যদিকে সামরিক সরকারের গ্রেফতারি পরােয়ানা। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একদিন টেলিফোন করে শমসের মবিন চৌধুরীর অফিসে গিয়ে দেখা করলাম। তিনি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ইউরোপ ডেস্কে ডিরেক্টর ছিলেন। দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য তার সহযোগিতা চাইলাম। তিনি বিভিন্ন দুতাবাসে টেলিফোন করে কয়েকটি দেশের ভিসার ব্যবস্থা করে দিলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ থেকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। শুধু তাই নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্যাডে আমার নামে একটি সার্টিফিকেটও লিখে দিলেন যাতে বিদেশে অন্যান্য দেশে ভিসা পেতে আমার সুবিধা হয়। আমার এই দুঃসময়ে তার এই উপকারের কথা আমি কখনো ভুলবো না। তার সাহায্যেই ৭৬ জানুয়ারিতে জেনারেল জিয়ার রক্ত চক্ষুর আড়ালে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।
১৯৭৮ সালে আবার দেখা হলো শমশের মবিন চৌধুরীর সাথে। তিনি তখন রোমের ইতালিতে ফাস্ট সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। আমি সুইডেন থেকে ওখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। দেখা হতেই বললেন ভালই করেছো দেশ ছেড়ে। আমি তাকে তার সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালাম। রোমে তখন ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমদও ছিলেন। তিনি তখন Food and Agriculture Organization of the United Nations (FAO) কর্মরত ছিলেন। ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদ আমাকে তাদের গাড়িতে করে রোম শহর ঘুরিয়ে দেখান। এর পর আর তাদের সাথে দেখা হয়নি। এই ফখরুদ্দিন আহমদ পরবর্তিতে সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তবে শমশের মবিন চৌধুরীর সাথে আবার দেখা হয়েছে। তাও আবার এই সুইডেনে। তখন তিনি পররাষ্ট্র সচিব। স্টকহল্মের শহরতলী সিস্তায় আমার বাসায় এসেছিলেন। সুইডেনের মূল ধারার রাজনীতিতে আমি সক্রিয় জেনে তিনি খুশি হয়েছিলেন। আমি তাকে সুইডিশ রাজনীতিবিদদের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করার কথা জানালে তিনি আপত্তি করেন। বলেন আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সরকারী চাকুরী করি।
এই শমশের মবিন চৌধুরী পরবর্তিতে কেন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হলেন সে প্রশ্নের উত্তর আমি আজও খুঁজে পায়নি। তবে শুনেছি ৯৬ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি যখন জার্মানিতে রাষ্ট্রদূত ছিলেন তখন তার কোনো এক কাজে সরকার সন্তষ্ট না হয়ে তাকে শাস্তিসুলভ ভিয়েতনামে বদলি করে। খুব সম্ভবত এখান থেকেই হয়তো শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সাথে তার দ্বন্দ্ব। আমার বাসায় অল্প সময় হলেও সেদিন আমি তার একটি সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। সেখান থেকে কিছু বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো।
মহিবুল ইজদানী খান: ন্যাম সন্মেলন বন্ধ করা হলো কেন? এধরনের একটা আন্তর্জাতিক সন্মেলন বাংলাদেশের জন্য কি সন্মান বয়ে আনতো না?
শমশের মবিন চৌধুরী: আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে এধরনের একটি ব্যয়বহুল সন্মেলনের আয়োজন করা সরকার সঠিক মনে করিনি বলেই তা বাতিল করা হয়েছে।
মহিবুল ইজদানী খান: ওয়েস্টটার্ন মিডিয়া সহ বিভিন্ন দেশ দাবি করছে যে বাংলাদেশে টেরর নেটওয়ার্ক আল কায়দার ঘাটি রয়েছে এবেপারে আপনার বক্তব্য কি?
শমশের মবিন চৌধুরী: বাংলাদেশে আল কায়দার কোনো অস্তিত্ব নেই। সেখানে ট্রেনিং সেন্টার থাকার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না। আমিতো বলেছি কোথায় ট্রেনিং সেন্টার আছে আমাদের বলো। আমরা তোমাদের সেখানে নিয়ে যাব। এটা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে একটা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করেছি।
মহিবুল ইজদানী খান: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবনতি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছে এবিষয়ে কি আপনি একমত?
শমশের মবিন চৌধুরী: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে কথাটা ঠিক নয়। তবে পানি বণ্টন নিয়ে আমাদের একটা সমস্যা অনেকদিন থেকেই আছে এবং এ সমস্যা সমাধানে দেশের বড় ৬ নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে আমাদের একটা চুক্তিতে আসতে হবে। শুধু ভারতই নয় আমাদের পাশ্বর্তী সকল দেশের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে হবে।
মহিবুল ইজদানী খান: তাহলে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন ভারতের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বিদ্ধমান?
শমশের মবিন চৌধুরী: অবশ্যই। তাছাড়া ভারতের এক বিরাট ব্যবসাও রয়েছে এখানে। বাংলাদেশে ঢাকা কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ভারত একইসাথে আগরতলার সাথেও সড়ক পথে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খুব শীগ্রই ১০ হাজার একর জমি ভারতের কাছ থেকে ফেরত পাওয়ার সমভনা রয়েছে। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। সুতরাং সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
এখন প্রশ্ন হলো কি কারণে পদতেগ করতে পারেন শমশের মবিন চৌধুরী? যতটুকু শোনা যায় বিএনপির বর্তমান রাজনীতির প্রতি তার আর কোনো আস্থা নেই। তাছাড়া বিএনপি নেতা তারেক রহমান গত আন্দোলনের সময় তার সাথে যে ভাষায় কথা বলেছেন তাতে তিনি অপমানবোধ করেছেন বলেও জানা যায়। তারেক রহমানকে তিনি পছন্দ না করলেও জিয়াকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। এই কারণে খালেদা জিয়াও তাকে সবসময় পাশে রেখেছেন। সম্ভবত তারেক রহমানের ব্যবহারে মনক্ষুন্ন ও তার নিজের বর্তমান শারীরিক অসুস্থার কারণেই তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে আন্দোলনের পরবর্তীতে বিএনপির অনেক নেতার সাথেই তিনি যোগাযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিএনপিতে তারেক রহমানের প্রতি মনক্ষুন্ন আরো কয়েকজন নেতা রয়েছেন। সময় বুঝে তারাও হয়তো সামনে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে বিএনপিতে থাকা এ ধরনের রাজনীতিবিদরা শমশের মবিন চৌধুরীর মতো রাজনীতি না ছেড়ে তারেক বিহীন বিএনপি গঠন করলেও করতে পারেন। তাই হয়তো আওয়ামী নেতা হানিফ বলেছেন ভবিষ্যতে আরো অনেকেই বিএনপি থেকে বের হয়ে আসবে। বিএনপিতে তারেকের নেতৃত্ব না মানার মতো যারা আছেন তারা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। খালেদা জিয়া দেশে ফেরত এসে কি পদক্ষেপ নেন তার অপেক্ষায় আছেন এ সকল নেতারা। বিএনপিতে চলছে এখন ক্ষমতার লড়াই, কোন্দল আর রেষারেষি। কে বেশি তারেক রহমানের প্রিয়পাত্র তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। তাই এখন বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে তারেক রহমানের পক্ষে তোষামোদি বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।
শমশের মবিন চৌধুরীর মত একজন সৎ, অভিজ্ঞ কুটনৈতিক ও রাজনীতিবিধ বিএনপির এই দু:সময়ে দল থেকে পদত্যাগ করাতে অবশ্যই ক্ষতি হয়েছে। বিএনপি নেতারা মিডিয়ায় একথা স্বীকার না করলেও পর্যবেক্ষকমহল তাই মনে করছেন। দলের সিনিয়র একজন নেতার পদত্যাগ ও সাথে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য দলের ভেতরে এখন একটা বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এদিকে শমশের মবিনের কারণে বিএনপি এখন সিলেটে নেতা শূন্য হয়ে পড়লো। তারেক রহমানের প্রিয় ব্যক্তি ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার পর থেকে শমশের মবিন সিলেটের রাজনীতি দেখাশোনা করতেন। এখন কে আসছেন আগামী দিনে সিলেটের রাজনীতিতে? যতটুকু শোনা যায় তারেক রহমানের স্ত্রী ডাক্তার জোবায়দার সম্ভবত রাজনীতিতে আসার সম্ভবনা রয়েছে। শমশের মবিনের পদতেগের এটাও একটা কারণ হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করছেন।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম
স্টকহোল্ম, সুইডেন।


