বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষোভ থেকে বিচার চাই না বলিনি: দীপনের বাবা

Fazlul-দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফিন দীপনের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে দীপনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর পর দুপুর পৌনে ১২টায় তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হক, দীপনের শ্বশুর ডা. মো. জালালুর রহমান ও ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এক প্রতিক্রিয়ায় দীপনের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গতকালও (শনিবার) বলেছি, আজও বলছি। আমি বিচার চাই না। এ কথা আমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলিনি। বিচার-বিবেচনা করে বলেছি। দেশের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার পর আইনগতভাবে। নইলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।’ সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ‘আমি নিয়মানুযায়ী মামলা করব। কারণ আমি আইন মেনে চলি।’

ঢামেক হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী আবু সামা দীপনের লাশের ময়নাতদন্ত করেন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার জন্য দুর্বৃত্তরা ভারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীপনের ঘাড়ে আঘাত করেছে। এ ছাড়া মাথায়ও আঘাত করা হয়। দীপনের ঘাড়ে ও মাথায় মোট চারটি আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আঘাতই ছিল মারাত্মক। আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

দীপনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীপনের বন্ধু আজিজুল ইসলাম ওয়ালী জানান, এখান থেকে দীপনের লাশ তার বাসা পরিবাগের গার্ডেন টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দীপনের জানাজা হবে। জানাজা শেষে তার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শনিবার বিকেলে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতির কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা দীপনকে কুপিয়ে জখম করে দরজা বন্ধ করে চলে যায়।

জাগৃতি থেকে অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ ও ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ নামে দুটি বই প্রকাশিত হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে। এ সময় তার স্ত্রী বন্যাও গুরুতর আহত হন।

জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক। অভিজিৎকে হত্যার পর তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও চিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে।

এদিকে আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার দায় স্বীকার করেছে আনসার আল ইসলাম নামের একটি সংগঠন। তারা নিজেদের আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) বলে দাবি করে।

শনিবার রাত ৯টার দিকে টুইটারে করা এক টুইটে এ দায় স্বীকার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল- ‘আমরা আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা এ হত্যার দায় স্বীকার করছি।’

আরও পড়ুন