বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

মির্জা ফখরুলকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

fakhrulরাজধানীতে নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে ফখরুলকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ তিন মামলার জামিন আবেদনে হাইকোর্টের জারি করা রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিস্পত্তি করতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

আদেশের পরে মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে ছয় সপ্তাহের মধ্যে মির্জা ফখরুলকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। পরে তার সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণের মেয়াদ বাড়ায় আদালত, যার শেষদিন ধার্য রয়েছে ২ নভেম্বর। আবারো আট সপ্তাহ সময়ের আবেদন জানিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। এ আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। ফলে তাকে মঙ্গলবারের মধ্যেই নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

গত ২১ জুন পল্টন থানার তিন মামলায় মির্জা ফখরুলের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে হাই কোর্ট। পাশাপাশি তিন মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসককে জবাব দিতে বলে।

ফখরুলকে হাই কোর্টের দেওয়া ছয় সপ্তাহের জামিন ‘স্বাস্থ্যগত অবস্থা’ বিবেচনায় ১৩ জুলাই আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। জামিনের মেয়াদ শেষে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

ওই মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে ৩১ অাগস্ট ফখরুলের পক্ষে আত্মসমর্পণের জন্য আরও আট সপ্তাহ সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আরো ছয় সপ্তাহ সময় দেয় আপিল বিভাগ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের পর গ্রেপ্তার হন ফখরুল। এরপর নাশকতার সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর মধ্যে পল্টন থানায় গাড়ি পোড়ানো, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় গত ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।

এরপর পল্টন থানার দুটি এবং মতিঝিল থানার এক মামলায় ১৮ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেয় হাই কোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও ফখরুলের জামিন বহাল থাকে।

আর পল্টন থানার ওই তিন মামলায় গত ২১ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফখরুলের জামিন মঞ্জুর করে। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে আদালত পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড করে ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে দেওয়ার পর ১৩ জুলাই তিন মামলায় জামিন পান মির্জা ফখরুল। এরপর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান তিনি।

আরও পড়ুন