বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়ার জাতীয় সংলাপের আহ্বান নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খুনিদের সঙ্গে’ সংলাপে বসার কোনো ইচ্ছা তার নেই। রোববার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ’গণভবন’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এতো দৈন্য দশায় বাংলাদেশ পড়েনি, যাতে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে- তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে।”
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া যে ‘উচিৎ’ তা যখন স্বীকার করবেন, তখনই তিনি সংলাপে বসার ‘যোগ্যতা অর্জন’ করবেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপিনেত্রী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন, “সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে দেশের এই ক্রান্তিকাল ও সঙ্কটজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রকে সংকোচন না করে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে সরে এসে একটি জাতীয় সংলাপের সূচনার পরিবেশকে উন্মুক্ত করবে।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন করার কথা মনে করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, নির্বাচনের আগে আমি তাকে ফোন করি। তখন কী ধরনের কথা শুনতে হয়েছে। ফোন করে আমার ঝাড়ি খেতে হয়েছে।”
খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে গিয়েও ঢুকতে না পারার কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আপনি যদি কারও বাড়িতে যান, আর আপনার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, আপনি কি তার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন?”
সংলাপের কথা বলার আগে খালেদা জিয়াকে “মানুষ পোড়ানোর রাস্তা’ থেকে বেরিয়ে আসার এবং জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা। তিনি বলেন, “উনি বলুক- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সমর্থন করেন। উনি বলুক- যুদ্ধাপরাধের যে বিচার হচ্ছে, তা সঠিক হচ্ছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় সংলাপের জন্যই খালেদা জিয়া ‘মানুষ হত্যা করে এ পরিস্থিতির’ সৃষ্টি করছেন। যার হাতে মানুষ পোড়ে, তার সাথে সংলাপের ইচ্ছা আমার নাই।… দয়া করে আমাকে ওই খুনি মানুষের সাথে বসতে অনুরোধ করবেন না। কারণ বসলেই পোড়া গন্ধ পাব।’
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যা ও হামলার জন্যও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন,“আগুন দিয়ে মানুষকে হত্যার পরও যেখানে দেখা যাচ্ছে যে তারা কিছু করতে পারছে না, তাই একটি গ্রুপ নেমেছে গুপ্ত হত্যায়।”
সদ্য সমাপ্ত নেদারল্যান্ডস সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ইন্টারনেট-অ্যাপে আসতে পারে কড়াকড়ি:
জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন বন্ধে তাদের শনাক্ত করতে কিছু ‘অ্যাপ’ বন্ধ করাসহ ইন্টারনেটের উপর ‘সাময়িক কড়াকড়ি’ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যা ও হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ‘শুভফল’ যেমন আছে, ‘খারাপ ফলও’ আছে। এতো বেশি আমরা সেই থ্রি-জিতে, ফোর-জিতে চলে গেছি…ইন্টারনেট-ভাইবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে এই জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ”
এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখব, এটা যদি খুব বেশি-ই করে, হয়তো একটা সময়ের জন্য, কিছু দিনের জন্য অন্তত এটা আমরা বন্ধ করে দিয়ে… এই লিংকগুলি যাতে ধরা যায়।”
চলতি বছরের শুরুতে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময়ও ‘ভাইবার’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ’সহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
তখন পুলিশ বলেছিল, নাশকতাকারীরা মোবাইল ফোনে কথা না বলে ইন্টারনেটভিত্তিক এসব অ্যাপ ব্যবহার করায় তাদের ধরতে সমস্যা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে একটি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বার্তা দিলেও সরকার বলছে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এ ধরনের হামলার পেছনের যারা রয়েছে, তাদের অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অর্থায়ন মূলত একটি দল করছে, আর মাঠে খুন খারাবির কাজ আরেকটা দল করছে। এর বেশ কিছু তথ্য আছে, আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা হচ্ছে।”


