জাতীয় সংলাপের আহ্বান দুর্বলতা নয়। দেশকে বাঁচাতে অবশ্যই জাতীয় ঐক্যের সূচনা করতে হবে, সংলাপও হতে হবে। এক্ষেত্রে গোয়ার্তুমির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সংলাপ না করে দোষারোপের রাজনীতি অব্যাহত রাখলে গণতন্ত্রের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনবে। ‘হিংসাশ্রয়ী’ রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিপন।
রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিপন। দুপুরে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির সংলাপ বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া জানাতে এর আয়োজন করা হয়।
লন্ডনে গত বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বর্তমান সরকার রাজনৈতিক সংকটের সূচনা করেছে। সময় থাকতে এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করতে সংলাপের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জাতীয় সংলাপের ওই আহ্বানকে নাকচ করে দিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনিদের সঙ্গে’ সংলাপে বসার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
তিনি বলেন, ‘এতো দৈন্য দশায় বাংলাদেশ পড়েনি, যাতে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে- তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, ‘সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সংলাপের আহ্বান জানানো বিরোধী দলের কোন দুর্বলতা নয়। সরকারের সৌভাগ্য যে, বিরোধী দলের ওপর নির্মম-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর পরও ভোটারবিহীন সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছে, শুধু দেশ-জাতি যাতে অমানিষার ঘোর অন্ধকারে নিপতিত না হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে বাঁচাতে চাই, জনগণকে বাঁচাতে চাই। এখানে ক্ষমতায় কে আছেন, ক্ষমতায় কে আসবেন এখন সেটা মুখ্য নয়। দেশকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে, জাতীয় ঐক্যের সূচনা করতে হবে, সংলাপও হতে হবে।’
ইতিবাচক রাজনীতি করে বলেই বিএনপি দেশ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থেকেই জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান দলের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সরকার প্রধান বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই তার মন্ত্রীদের কথাই পুনরুচ্চারণ করেছেন, যা দেশবাসিকে সত্যিই হতাশ ও বিষ্মিত করেছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে দলের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলেছি যুদ্ধপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার চাই এবং এ প্রশ্নে আমাদের সমর্থন রয়েছে। তারপরেও নিছক রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শাসকদল এক ধরণের ‘গোয়েবলসীয়’ প্রোপাগান্ডা অব্যাহত রেখেছে।’
বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম চলছে সেটি বিএনপি সমর্থন করে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি রিপন। তিনি বলেন, বিএনপি বিচার চায়, এ বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের নানা পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এ পর্যবেক্ষণগুলো সুরাহা করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রধান আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হত্যাকান্ড ‘আইএস’ ঘটিয়েছে এমন স্বীকারোক্তির জন্য সরকারের ওপর প্রচন্ড চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ তথ্যে সমগ্র জাতি উৎকন্ঠিত হয়েছে। কারণ জাতির উপলব্ধি করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়-এর পরিণাম বাংলাদেশের জন্য কতটা বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিপন বলেন, ‘সবাই মিলে বাংলাদেশের ওপর আসন্ন বিপদের হুমকিকে মোকাবেলা করি। কারণ নগর পুড়লে দেবালয়ও তাতে রক্ষা পায় না।’
বিএনপি সহিংসতায় বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে রিপন বলেন, ‘বিএনপি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করেছে এবং প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু আন্দোলন চলাকালে কোন ধরনের সহিংসতা-জ্বালাও-পোড়াও ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আদৌ কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। সেজন্য এসব ঘটনায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থার দাবিও করেছে।’
সরকার বিএনপিকে দেশে বিদেশে হেয় করতে সহিংসতার সঙ্গে জড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল ষ্টাডিজ (সিএনএস) নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণালদ্ধ প্রতিষ্ঠান একটি প্রকাশনায় উল্লেখ করেছেন- কিভাবে ওসব ঘটনায় সরকারি লোকজন সংশ্লিষ্ট ছিল এবং তারাই জ্বালাও-পোড়াও’র ঘটনায় জড়িত। ওই তথ্য অনুযায়ী সরকার উদোর-পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায়।’


