সাব্বির খান।
২০১০ সালের ১০ এপ্রিল সিলেটে, আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, ‘দল বদলালে দেশ বদলাবে’। তাঁর এই বক্তব্য সারাদেশের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ১১ এপ্রিল।
সৈয়স আশরাফের সদস্য সংগ্রহ অভিযান বেশি দূর এগোতে পারেনি। মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কাউকেই কোনদিন আর সে অভিযানের ব্যাপারে কোন উচ্চারন করতে শোনা যায়নি। কিন্তু কেন?
সে প্রশ্নের জবাব হয়ত সরাসরি প্রমান করা সম্ভব হবে না। তবে সেই থেকে অদ্যাবধি কয়েকটি আমূল পরিবর্তন, যা সবার চোখে পড়েছে, সেগুলো বিশ্লেষন করলেই সহজ উত্তরটি হয়ত পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এক) সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হলেও দলের মূখপত্রের মাইক সর্বক্ষন মোহাম্মদ হানিফের হাতে থাকে বেশ কিছু বছর ধরে। অর্থাৎ আশরাফ সাহেবকে সাইজ করে সাইড লাইনে রেখেছে ‘হানিফ গোষ্ঠী’।
দুই) ওনার পূর্বের মন্ত্রনালয়েও ওনাকে একেবারে কোন ঠাসা করে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন অজুহাতে, যার কারনে উনি হয়ত মন্ত্রনালয়ে অফিস করাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভদ্র মানুষ জঙ্গলে থাকতে পারেন না বেশি দিন, এটাই হয়ত আশরাফ সাহেবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। পরিণতিতে একেবারে মন্ত্রনালয় পরিবর্তন।
তিন) একজন খন্দকার সাহেব আশরাফ সাহেবের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই হুংকার দিয়েছিলেন এই বলে যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করাই হবে ওনার প্রথম কাজ। আশরাফ সাহেবের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ছিল? মানে আশরাফ সাহেব…? এটা একটা কানাও বিশ্বাস করবে না। যাইহোক…
চার) আশরাফ সাহেবের সদস্য সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ার নেপথ্য কাহিনী আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আসা শুরু হলো। ফরম পূরন করে আদি-অন্ত জেনে নতুন সদস্য সংগ্রহের যে নীতিমালা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ হাতে নিয়েছিলেন, ছলেবলে কলেকৌশলে সে প্রজেক্ট আস্তাকুড়ে পাঠিয়ে ‘হানিফ গোষ্ঠী’-র হাত ধরে সারা বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা “ফরম পূরন” ছাড়াই আওয়ামী লীগে যোগদান করা শুরু করলো। আশরাফ সাহেবের হাতে মূখপত্রের ‘মাইক’ থাকলে কি এটা সম্ভব হত?
পাঁচ) তারপর থেকে কানে আসা শুরু হলো, হানিফ গংরা ‘পার পিস পাঁচ লাখ’ টাইপের উর্বর ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন জেলার জামায়াত-বিএনপি নেতাদের কোন ধরনের রশিদ প্রদান ছাড়াই বিভিন্ন মামলায় জামিন এবং আওয়ামী লীগে যোগদানের বিনিময়ে বেশ কিছু হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসবই নেত্রী শেখ হাসিনার অগচরেই ঘটতে থাকে। মওকাটা এমমই যে, উচ্ছিষ্ট খাওয়া এই গংদের পাল্লাই ভারী হয়ে গেল লীগে এবং কেউ কিছু টুশব্দও করার সাহস পেল না। শুনেছি, এই গ্যাং এর প্রসার নাকি সুদুর গণভবনের অভ্যন্তর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এভাবেই অঙ্কুরে মুখ থুবড়ে পড়েছিল সৈয়দ নজরুল ইসলামের অসাধারন মেধাবী রাজনীতিবিদ সন্তান সৈয়দ আশরাফের আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান।
দিন দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া ধমকে আশা করি ‘হানিফ গংদের ট্যাকাটুকা কামানো বন্ধ হবে। সেই সাথে আমরা আশা করি, সত্বর গণভবন কেন্দ্রীক গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটও ভেঙ্গে দেয়া হবে। এতে দেশের উপকার অপরিসীম হবে বলেই বোদ্ধারা মনে করছেন।
সুইডেন প্রবাসী লেখক।



