বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে দুই সঙ্গীসহ গোপনে মুক্তি

Anup-Chetia_2_fellowভারতের আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল উলফার নেতা অনুপ চেটিয়া ও তার দুই সঙ্গীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে তাদের ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা জে পি সিংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব জেপি সিং বিষয়টি নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের কাছে স্বীকার করেননি। হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা বুধবার সকালে এই প্রতিবেদককে বলেন, “আজ আমাদের সরকারি ছুটি। কাল অফিসে আসেন।’

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটকের পর ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে অনুপ চেটিয়া আটক ছিলেন।

উলফার জেনারেল সেক্রেটারি অনুপচেটিয়া, তার দুই সঙ্গী লক্ষী প্রসাদ গোস্বমী ও বাবুল শর্মাকে মঙ্গলবার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে বের করে একটি গাড়িতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় দূতাবাস থেকে অনুপ চেটিয়া ও তার সঙ্গীদের আজই সীমান্ত পথে ভারতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। বিশেষ বিমানের মাধ্যমে তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার কথাও জানা যায়। তা না হলে সীমান্ত পথে পুশব্যাকের মাধ্যমে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১৯৯৭ সালে অনুপ চেটিয়াকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের জন্যে বাংলাদেশের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। গত জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে এলে বন্দী বিনিময় চুক্তি হওয়ার পর এ বিষয়টি আরো এগিয়ে যায়।

তবে এর আগেই সাজা ভোগ করার সময় অনুপ চেটিয়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আবেদন করেন। বিষয়টি নিস্পত্তি হওয়ার আগে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার সাজা শেষ হয়ে গেলে তিনি নিজেই ভারতে চলে যাওয়ার জন্যে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানান। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন ছিল। এবছর ফের একই আবেদন করেন তিনি।

এদিকে জেল আইন অনুসারে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক সাজা ভোগ করার পর তাকে তার দেশে ফেরত পাঠাতে হলে ওই দেশের দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়। অনুপ চেটিয়া ও তার দুই সঙ্গীর ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক ভাবে ভারতীয় দূতাবাস এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়েছে। অনুপচেটিয়া ও তার দুই সঙ্গীকে সিলেটের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন