১৮ বছর বাংলাদেশের কারাগারে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়ার ভারতে প্রত্যর্পণে সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া নিঃসঙ্গ হচ্ছেন। কারণ অনুপ চেটিয়া উলফার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিলে আসামে উলফার কার্যক্রমে বিশাল প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, অরবিন্দ, রাজু, শশধর ও চিত্রবনদের পর অনুপ দেশে ফেরায় স্বাধীন আসামের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া পরেশ বড়–য়া ধীরে ধীরে নিঃসঙ্গ হচ্ছেন।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায়ে চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ যে ১৪ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, এর মধ্যে আছেন পরেশ বড়ুয়া। তিনি পলাতক। অধিকাংশ নেতা আটক থাকলেও পলাতক আছেন সংগঠনের সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া। কোথায় আছেন পরেশ? ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘চীনে আছেন পরেশ বড়ুয়া।’ ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওই খবর দেয় পত্রিকাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরেশ বড়ুয়া দুই বছর ধরে চীনের রুই লি শহরে আছেন। আর দুই সন্তানসহ বড়ুয়ার স্ত্রী ঢাকায় থাকেন।
পরেশের প্রধান সহযোগী জ্যোতির্ময় বারালিকে করা এক ফোনের সূত্র ধরে তার চীনের থাকার কথা জানায় টাইমস অব ইন্ডিয়া। জ্যোতির্ময় মিয়ানমারে উলফার শিবির দেখভালের দায়িত্বে আছেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভারত বা বাংলাদেশের আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর আজও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। উলফায় যোগ দেওয়ার পর তিন দশক ধরে তিনি পলাতক অবস্থায় আছেন। তার অবস্থান নিয়ে নানা গুজব থাকলেও তিনি ঠিক কোথায়, সেটি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন না।
ভারতের আসাম রাজ্যের জেরাইচাকলি ভারাইগাঁও গ্রামের দ্বিজেন বড়ুয়ার ছেলে পরেশ বড়ুয়া। পরেশ অসম নামে তার পরিচিতি আছে। তবে আরও কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন এই গেরিলা নেতা। এর মধ্যে আছে কামরুজ্জামান খান, নুরুজ্জামান ও জামান ভাই। তিনি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে প্রচলিত আছে।
পরেশ বড়ুয়ার জন্ম ১৯৫৭ সালে। আসাম পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসী পরেশ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এবং জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগ আছে। ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারপোল পরেশ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।
২০০৯ সালে উলফার সভাপতি অরবিন্দ রাজখোয়াসহ উলফার বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলাদেশে আটক হওয়ার খবর ভারতের কিছু পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। এরপর উলফা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। রাজখোয়ার নেতৃত্বে উলফার একটি বড় অংশ ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করে। কিন্তু পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন অপর অংশ পূর্বের অবস্থানে থেকে যায়। এবার সরকারের সঙ্গে শন্তি আলোচনায় অনুপ চেটিয়া যোগ দেয়ায় পরেশ বড়–য়া সত্যিই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


