৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের ভারে জর্জরিত দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটককে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে ‘রি-ব্র্যান্ডিং’ হবে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ডাকঘরে টেলিটক পাবে একটি করে কামরা। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম একথা জানিয়েছেন।
“সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। সিম রেজিস্ট্রেশনই শুধু মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এইসব প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করাও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।” জাতীয় পার্টির সদস্য ফিরোজ রশীদ চৌধুরী টেলিটকের সমস্যা সমাধানে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জবাবে তারানা হালিম বলেন, “মন্ত্রণালয় শুধু সিম নিবন্ধনই করছে না। টেলিটককে নিজের পায়ে দাঁড় করাতেও কাজ করছে।”
টেলিটকের ৩৯ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা লোকসানের তথ্য সংসদকে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সত্যিকার অর্থে হতাশ আমরাও। কেন এতোদিনেও টেলিটক নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে নাই?…টেলিটক যে লাভ করবে, সেটা দেশেই থাকবে।”
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা টেলিটক সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েও জিএসএম অপারেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্রাহকদের হাতে থাকা ১৩ কোটি ১৪ লাখ মোবাইল সিমের মধ্যে মাত্র ৪১ লাখ টেলিটকের। আকর্ষণীয় কলরেট দিয়েও নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং বিপণণের ব্যর্থতায় গ্রাহক পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
সাম্প্রতিক দক্ষিণ কোরিয়া সফরের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী তারানা সংসদে বলেন, সেখানে তিনি টেলিটকের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ চাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ কার্যকর হলে টেলিটকের ‘কানেকটিভিটি’ বাড়বে বলে। এছাড়া টাওয়ার শেয়ারিং করতে পারলে আমরা টেলিটককে তৃণমূলে নিয়ে যেতে পারব, আশা প্রকাশ করেন তারানা”


