বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার হুমকি, চিহ্নিত হয়নি কেউই

intilec-threat-1-37538চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত নামে বেনামে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে কমপক্ষে ২০জন বুদ্ধিজীবীকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, বুদ্ধিজীবীদের প্রাণনাশের হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করতে এবং প্রগতিশীল এসব ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। আর সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আইনের পাশাপাশি এ অজ্ঞাত হুমকি মোকাবেলা করতে হবে সামাজিকভাবেও।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ১৫ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পক্ষ থেকে চলতি বছরের মে মাসে চিঠি আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে।

সেই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরি করে শাহবাগ থানায়। এর কিছুদিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন নামে পাঠানো হয় একই ধরণের চিঠি। সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাও দেয়া হয় কাউকে কাউকে। কিন্তু কারা কারা দিয়েছিল সেই হুমকি তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এক প্রকাশককে হত্যা ও আরো তিন প্রকাশক লেখকদের উপর হামলার পর এবার হত্যার হুমকি দিয়ে খুদে বার্তা দেয়া হয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে অন্তত পাঁচজন প্রকাশক ও লেখককে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যে যত চক্রান্ত করুক না কেন। যে যত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে প্রয়াস পাক না কেন। আমরা এগুলোকে প্রতিরোধ করবো। সবগুলোকে আমরা চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবো।’

অন্যদিকে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরণের ঘটনা বন্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে সুশীল সমাজকেই। সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলোকে বন্ধ করতে যেগুলো দরকার সেটা হলো গণচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। সুশীল সমাজকে এগিয়ে এসে এটা মোকাবেলা করতে হবে।’

সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘কাউকে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দেয়া বড় ধরনের অপরাধ। বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেই সম্পর্কে আমার মনে হয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, নানা ধরণের বঞ্চনা বোধ ও বৈষম্য থেকে এক শ্রেণির মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয় তারই বহি:প্রকাশ এসব ঘটনা। আর তাই বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি বন্ধে দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকেই।

আরও পড়ুন