শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

মুক্তমনা মানে আসলে কি?


NEWSWORLDBD.COM - November 13, 2015

dablu22মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, সুইডেন থেকে

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি নিজে মুসলমান। আমি আল্লাহ রাসুলকে বিশ্বাস করি। ইসলামকে নিয়ে কোনো কটু মন্তব্য, ধর্মকে কটাক্ষ করে বিকৃতভাবে কিছু লিখলে সেটা অবশ্যই আমাকে আঘাত করবে। মুসলমানদের মতো তেমনি হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ ধর্মকে নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করলে তারাও আঘাত পাবে। আপনি কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন বা কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করেন না সেই বিশ্বাস আপনার নিজের কাছেই রাখুন। আপনাদের লিখতে মানা করা হয়নি। কিনতু কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু লিখবেন না। কথাটা মূলত তিনি দেশের মুক্তমনাদের উদ্দেশেই বলেছেন। বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে এমন একটা দেশ যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম থাকবে যার যার কাছে। এক ধর্ম আরেক ধর্মীয় অনুভূতিতে হানবে না কোনো আঘাত। বাংলাদেশ হবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। বাহিরে ইসলামিক রিপাবলিক ও ভেতরে চলবে সকল ইসলাম বিরোধী কাজ এ কেমন করে হয়। নাম দিয়ে কি কিছু হয়? নামের মাঝে কি সবার পরিচয় পাওয়া যায়? নিশ্চই নয়। বিশ্বের সকল ইসলামিক রিপাবলিক দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই তার প্রমান সামনে ভেসে উঠবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়। তাই রাখা হয়েছে বাংলাদেশের নাম পিপিলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ অর্থাত গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দেশে যদি কেউ এখন ধর্মকে কটাক্ষ করে অশ্লীল ভাষায় কিছু লিখে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ধর্মে বিশ্বাসী লোকদের মনে লাগবে আঘাত। আর এই আঘাত থেকেই আসবে প্রতিঘাত। অনেক সময় এই প্রতিঘাত রূপ নেয় ভয়ংকর। ফলে ঘটে অনেক অনাকাংখিত ঘটনা। অতীতে ঘটে যাওয়া কয়েকজন মুক্তমনাদের হত্যা হয়তো তারই ইঙ্গিত বহন করছে?

মুক্তমনা মানে আসলে কি? হয়তো বলবেন মুক্তমনা মানে মনের ভাব প্রকাশের অধিকার বা কলমের স্বাধীনতা। কিনতু এই মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কেউ ধর্মকে নিয়ে কোনো কটু মন্তব্য কিংবা কটাক্ষ করে অশ্লীল ভাষায় কিছু লিখে তখন বিষয়টিকে কিভাবে দেখা যেতে পারে। লেখার তো আরো অনেক কিছুই আছে। যারা কলমের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে শুধু মাত্র ধর্মকে বিকৃত ও কটাক্ষ করে কিছু লিখেন তাদের এই অধিকারের মাত্রাটা কি কিছুটা অতিরিক্ত নয়? সম্ভবত এই কারণেই শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলামকে নিয়ে কোনো কটু মন্তব্য, ধর্মকে কটাক্ষ করে বিকৃতভাবে কিছু লিখলে সেটা অবশ্যই আমাকে আঘাত করবে। জানিনা দেশের মুক্তমনা লেখকরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে এখন কিভাবে গ্রহণ করবেন। তবে কথাটার অবশ্যই একটা যুক্তিকতা রয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম ভিরু কিনতু ধর্মান্ধ নয়। এদেশে মুসলমানদের পাশাপাশি বাস করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ। বিশ্বে আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে ধরা হয় থাকে।

অন্যদিকে ইউরোপের আয়ারলেন্ডে এখনো চলছে ধর্মীয় বৈসম্মতা। সেখানে দীর্ঘদিন থেকে চলছে প্রোটেস্ট্যান্ট ক্যাথলিকদের মধ্যে সংঘর্ষ। লিবানন, ইরাক, সিরিয়ায় চলছে শিয়া সুন্নীর যুদ্ধ। মুসলিম দেশ বলে দাবিদার পাকিস্থানে এখন ভওয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পবিত্র জুম্মার নামাজে মসজিদে বোমা ফাটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে মুসলমানদের। ভারতে মৌলবাদী মুদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিব সেনাদের ভয়ে মুসলমানরা এখন আতঙ্কিত। সেদিক থেকে তুলনা করলে বাংলাদেশে নানা ধর্মের মানুষ বসবাস করা সত্বেও এখানে রয়েছে এক সম্প্রীতির পরিবেশ। একে অপরের ধর্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সন্মান। কারণ আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি। তবে একথা সত্য যে এই পরিবেশ ও পরিস্থিতি কখনো কখনো গুটি কয়েক ধর্মান্ধদের কারণে অন্য রূপ ধারণ করে বৈকি। কিনতু এর জন্য দায়ী কে? সরকার, ধর্মান্ধতা না মুক্তমনা লেখক? বিষয়টিকে এখন আমাদের অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় আনতে হবে। আমরা নিশ্চই চাইব না এভাবে একের পর এক মুক্তমনাদের হত্যা?

ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে অন্য ধর্মকে আঘাত করা নয়। বাংলাদেশ মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। মিডিয়ার পাতাগুলো তার জলন্ত প্রমান। তবে বাংলাদেশ মুক্ত মত প্রকাশের নামে কারো ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করার পক্ষপাতি নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মুক্তমনাদের লিখতে মানা করা হয়নি। কিনতু কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আপনারা কিছু লিখবেন না। এখন প্রশ্ন হলো মুক্তমনা বলে কি যা ইচ্ছা তাই লিখা যায়? জানি না পাঠকেরা আমার এই প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দেখবেন। তবে আমি মনে করি একটি মতপ্রকাশ কখনো কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখাটা ঠিক নয়। একজন বিবেকবান মুক্তমনা লেখক কখনই অপরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু লিখবেন না। তবে কেউ কেউ আছেন সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় মিথ্যে জ্ঞানের বাহার ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সৃষ্টি করেন প্রতিহিংসা। ফলে ঘটে অনাকাংখিত মৃত্যু। যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে সরকারের কাজে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। সরকারের চেষ্টা থাকা সত্তেও কখনো কখনো তারা দোষী বেক্তিদের গ্রেফতার করতে পারছে না। পর্যবেক্ষক মহলের অনেকেই মনে করেন আঘাত করলে প্রতিঘাত তো আসবেই। সুতরাং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার আগে মুক্তমনাদের একটু হলেও ভেবে দেখতে হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

তবে একথা সঠিক যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এখান প্রশ্ন আসতে পারে ষোলো কোটি মানুষের দেশে সরকারের কি সেই পর্যাপ্ত সংখা নিরাপত্তা বাহিনী আছে? সম্ভবত নাই। তাই সরকার পুলিশের সংখা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। কিনতু শুধু কি পুলিশের সংখা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? পুলিশের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপবেবহার ও নিরপরাধ নাগরিকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে সে বেপারে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। শুধুমাত্র পুলিশের সংখা বাড়ালেই চলবে না। আমাদের প্রয়োজন আদর্শবান পুলিশ যারা দেশের জনগনের যান মাল রক্ষা করবে। তা না হলে রক্ষক হয়ে যাবে বক্ষক। আসলে এখন অনেকক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। আজকাল মিডিয়ায় লক্ষ্য করলেই আমাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে ধরা পরে।

বেক্তিগতভাবে আমি একজন মুসলমান হিসেবে নামাজ রোজা যাকাত তিনটায় পালন করে আসছি। এবছর আল্লাহর হুকুমে হজ্জও পালন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তবে আমি ধর্মান্ধ নই। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম নিরপেক্ষতায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যার যার ধর্ম তার তার এই নীতিই আমার চলার পথের পাথেও। ধর্ম অধর্ম ও রাষ্ট্র ধর্ম নির্ভর রাজনীতি থেকে জনগনের দুরে সরে আসাটাই হবে সবচেয়ে উত্তম বলে আমি মনে করি। তাই সবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুরে সুর মিলিয়ে আমিও বলবো আমি মুসলমান। আমি আল্লাহ রাসুলকে বিশ্বাস করি। ইসলামকে নিয়ে কোনো কটু মন্তব্য, ধর্মকে কটাক্ষ করে বিকৃতভাবে কিছু লিখলে সেটা অবশ্যই আমাকে আঘাত করবে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.