নিউ ইয়র্কে বন্ধুর জানাজা নামাজে যোগ দিতে এসে বাংলাদেশী কমিউনিটির তোপের মুখে পড়েন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে জুমার নামাজ শেষে বন্ধু আবদুল মুনিম চৌধুরীর জানাজার নামাজ পূর্বে বক্তব্য দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার প্রতি শুক্রবার দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ তার বন্ধু আবদুল মুনিম চৌধুরীর জানাজায় যোগ দিতে একাই মসজিদে আসেন। জুমার প্রথম জামাত শেষে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আক্তার হোসেন ঘোষণা দেন এখন আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও আবদুল মুনিম খানের বন্ধু ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। ঘোষণার সাথে সাথেই মসজিদ জুড়ে কানাঘুষা শুরু হয়। এসময় তড়িঘড়ি করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
ড. ফখরুদ্দিন তার বক্তব্যে নিজের ও বন্ধুর জন্য দোয়া কামনা করেন। পরে মসজিদ কমিটির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে ইমাম জানাজা নামাজ পড়ান। এরপর নামাজ শেষে ফখরুদ্দিন আহমেদ মসজিদ থেকে বের হতেই গালাগালি দিয়ে তেড়ে আসেন কয়েকজন বাংলাদেশী মুসল্লি। তারা বলতে থাকেন, বাংলাদেশকে ৫০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন এই ফখরুদ্দিন। তার দোয়া চাওয়ার কোনো অধিকার নেই।
এঘটনায় তাৎক্ষিণক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূইয়া বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার কমবেশি ভুল থাকতেই পারে। কিন্তু এই অযুহাতে কেউ মসজিদে আসলে তাকে গালাগালি করাটা অশোভন কাজ বলে মনে করি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে ড. ফখরুদ্দিন আহম্মেদ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে বসবাস করলেও এই প্রথম জনসন্মুখে আসলেন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নিউ ইয়র্কে এই প্রথম তাকে দেখা গেল। মসজিদ থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। স্যার দেশ কেমন আছে? জবাব না দিয়েই দ্রুত মসজিদ এলাকা ত্যাগ করেন ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ।
সংবাদদাতা
নিউকওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


