বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না: আইজিপি

I-GPপুলিশ মহাপরির্দশক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘আমরা অবশ্যই সতর্ক আছি। বিভিন্ন সময় দেশীয় জঙ্গি গ্রুপ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা হোসেনী দালানে হামলা এবং দুই পুলিশ সদস্য ও দুই বিদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে। সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটালেও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারেনি।’ পুলিশ সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে সোমবার বেলা ১২টা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হাতে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখী হন আইজিপি।

ফ্রান্সের প্যারিসে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার প্রভাব বাংলাদেশ পড়বে কি না এবং এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এসব ঘটনার পর আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠ পর্যায়ের সদস্যদেরও অধিকতর সতর্ক হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে। এ ছাড়া প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেসব মামলার অগ্রগতি আছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে আপনাদের জানানো হবে।’

পুলিশ প্রধান বলেন ‘প্রতিটি ঘটনার অপরাধীরা প্রায় চিহ্নিত হয়েছে। কিছু আসামি গ্রেফতার হয়েছে। কিছু গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
‘আমি তো বলবো নিয়ন্ত্রণে আছে। আরও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে,’ মন্তব্য করেন আইজিপি।

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের মনোবল যাতে দুর্বল হয়, মানুষের মধ্যে যেন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, মানুষ যেন মনে করে পুলিশও আজ টার্গেট হচ্ছে। এ ধরনের প্যানিক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। নয়তো সাধারণ ও নিরীহ পুলিশ টার্গেট হওয়ার কথা নয়।’

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায় যাদের আটক দেখানো হয়েছে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের মাসখানেক আগেই পুলিশ আটক করেছে। এমন অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘পুলিশ আইনের বাইরে নয়। এমন অভিযোগ আসলে খতিয়ে দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে অনুমান নির্ভর কথা বলেন। অনেকে মামলার ভয়ে বাড়ির বাইরে থাকেন। বাসায় থাকেন না। পরে পুলিশ যদি পলাতক অবস্থায় আটক করে পরিবার মনে করে, পুলিশ আটক করেছে।’

বিভিন্ন ব্লগার, লেখক, প্রকাশক ও বিশিষ্টজনদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। তবে তাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে পুলিশ সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। অনেককে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়াও হয়েছে। তারা যদি কোনো অনুষ্ঠানে যায় সেখানেও পুলিশ সদস্য দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া যেসব নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে আটক করা হচ্ছে— এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্দোষ ব্যক্তিকে আটক করবে, এটা মেনে নেব না। এমন নির্দেশনাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে, যারা বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রকারী ও মদদদাতা ছিল, এ ছাড়া নাশকতার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, পরে জামিন নিয়ে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে; ঠিক তাদেরই আটক করা হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা গণগ্রেফতার বলা যাবে না। যাদের ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই, তাদের আটক করা হচ্ছে না। কেউ যদি নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।’

অনুষ্ঠানে গাবতলীতে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম মোল্লা ও সাভারে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কনেস্টবল মুকুল হোসেনসহ ১৪ পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সর্বমোট ৬১ লাখ টাকা আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন পুলিশ প্রধান।

আরও পড়ুন