বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হয়রানি বণিজ্যকারী সেই ওসি বরখাস্ত

OC-Pradip৯ হাজার লিটার তেলের ট্যাংক লরি আটক ও মামলা দিয়ে হয়রানি করায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস ও একরামুল হকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতরের এক আদেশে রবিবার রাতে ওসি প্রদীপকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ এসেছে। বর্তমানে বায়েজিদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল আবসারকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, প্রশাসন ও ট্রাফিক) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রদীপকে বরখাস্ত ও অপর দুইজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তির সুপারিশ আশার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সুপার রিফাইনারির পণ্য আটক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় সুপার রিফাইনারি নামক একটি কারখানা থেকে ৯ হাজার লিটার কেরোসিন সলভেন্ট অয়েল নিয়ে একটি ট্যাংক লরি অন্য একটি কারখানায় যাওয়ার সময় বায়েজিদ থানা পুলিশের এসআই সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেটি আটক করে।

লরিতে অবৈধ তেল রয়েছে এমন অভিযোগে আটকের পর সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে তেল পরিবহন এবং বৈধভাবে আমদানি করার যাবতীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা কোনো কথা না শুনেই লরির চালক, হেলপার ও কারখানার এক সুপারভাইজারসহ লরিটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে এ ঘটনায় সুপার রিফাইনারি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্য কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে এসআই সুজন বিশ্বাস বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন একই থানার এসআই একরামুল হক।

এ ঘটনার পর সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ পুলিশের আইজি বরাবর তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। আইজি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত শেষে সিএমপির কমিশনার আব্দুল জলির মণ্ডলসহ সাত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযুক্তরা হলেন সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামি থানার হয়রানিমূলক মামলার বাদী এসআই সুজন বিশ্বাস, একই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একরামুল হক, মামলা রেকর্ডকারী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, নগর পুলিশের উত্তর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি-পাঁচলাইশ) দীপক জ্যোতি খীসা, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-উত্তর) শেখ শরিফুল ইসলাম, উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) পরিতোষ ঘোষ, এবং সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।

আরও পড়ুন