আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর আস্থা না থাকায় জীবননাশের হুমকি নিয়েও থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে আগ্রহী হন না সাধারণ মানুষ। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে নাগরিক সেবা পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত হচ্ছে না।
সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে নাগরিকদের যে কোনো আইনি সেবা এবং সর্বত্র জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে থানায় লোকবলের অভাবসহ নানা সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না তারা।
থানায় জিডি করতে গিয়ে ত্ক্তি অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কয়েকজন। তাদের একজন বলেন, ‘আমার ট্রেড লাইসেন্স হারিয়ে গেলে থানায় জিডি করতে যাই। সেখানে গিয়ে যে আচরণ পেয়েছি, তাতে মনে হয়েছে- কাউকে যদি দেড় হাজার টাকা দিয়েও কাজটা হতো, তারপরও আমি থানায় যেতাম না। পুলিশ এতো খারাপ।’
অন্য একজন বলেন, ‘মানুষ থানা-পুলিশ দেখলে হয়রানি বোধ করে, এ জন্য যেতে চায় না।’ আরও দু’-একজনের বক্তব্য ছিলো এ রকম- ‘মানুষ কেন যাবে, ক্ষমতা থাকলে জিডি কাজে দেয়। আর সাধারণ মানুষের আল্লাহ আছে, জিডি করে কিছু হয় না।’
‘আমার দু-তিনবার থানায় যাওয়ার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে- পুলিশ টাকা চায়, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না।’ এই হলো, থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যাওয়া সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অনেক সময় বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে পারতপক্ষে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যেতে রাজি হন না অনেকে।
প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন, এমন কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে ফোনে হুমকি দিয়েছে, কিন্তু থানায় গিয়ে জিডি করতে আমি রাজি না। কারণ, এতে কোনো কিছুই হবে না।’ ‘সবারই নিরাপত্তা দরকার। কেউই নিরাপদ না। আগের অভিজ্ঞতা তেমনই। উল্টো জিডি করতে গেলে পুলিশ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়।’
এদিক, অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন সব কারণে গুরুত্ব হারাচ্ছে সাধারণ ডায়েরি ব্যবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘জিডি করলে কিছুদিন পুলিশ হয়তো দেখাশোনা করে, তারপর আবার আগের মতোই। আমার মতে, পুলিশ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে ব্যর্থ, তারই বহিঃপ্রকাশ হলো জিডির কার্যকারিতা না থাকা।’
এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করে এর কারণ হিসেবে জনবলের স্বল্পতা এবং কাঠামোগত ত্রুটিকে দায়ী করেন ডিএমপি’র রমনা জোনের এডিসি মো. ইব্রাহিম খাঁন।
তবে, সাধারণ মানুষের আইনি সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানান সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটার আগেই যেহেতু জিডি করা হয়, তাই এটা করার পর সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন এমনটি না ঘটে।’
সাধারণ ডায়েরির প্রক্রিয়া এবং নাগরিক সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা গেলে অনেক সময় বড় বড় দুর্ঘটনা যেমন রোধ করা সম্ভব, তেমনি মামলা করার প্রবণতাও কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


