বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘জাতির নিরাপত্তার স্বার্থে ফেইসবুক-ভাইবার বন্ধ করা হয়েছে’

taran halimদেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, ফেইসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে। জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা ছিল না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যাপসগুলো বন্ধ করার সময় এ সমস্যা হতে পারে।

যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড রিভিউয়ের আবেদন খারিজের দুই ঘণ্টা পর বুধবার দুপুরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতিমন্ত্রী বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে।”

বেলা সোয়া ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কেউ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর ইন্টারনেট সংযোগ ফিরতে শুরু করলেও সামাজিক যোগাযোগের কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রয়েছে।

তারানা বলেন- ফেইসবুক, ফেইসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের পাশপাশি অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যান্য অ্যাপ- যেমন ট্যাংগো, আইএমও, টুইটারসহ অন্যগুলোও নজরদারিতে রয়েছে।

‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ গ্রাহকদের এই কষ্ট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্ধ হওয়া অ্যাপগুলো চালু হতে পরবর্তী নির্দেশনা পর্য‌ন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

ইতিহাসে প্রথমবারের ‘মতো’ বুধবার প্রায় দেড় ঘণ্টা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশ।

এদিকে, বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ইন্টারনেট বিছিন্ন করার কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি। আমরা শুধু সামাজিক যোগাযোগের ৪টি অ্যাপস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ক্রটির কারণে বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটি হতে পারে। আমরা কথা বলে ঠিক করে দিচ্ছি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলার সময় ‘নিরাপত্তার’ কারণ দেখিয়ে ভাইবার, ট্যাংগো, হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন নামের পাঁচটি অ্যাপসের সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। তখন বলা হয়েছিল, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এসব অ্যাপস ব্যবহার করতেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরে গত ৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গি অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরতে জটিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল করেছি। এর শুভ ফলও যেমন আছে, খারাপ ফলও আছে। আমরা থ্রি-জি ও ফোর-জিতে চলে গেছি। এ কারণে জঙ্গিরা ইন্টারনেট, ভাইবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে। সে জন্য আমাদের চিন্তাভাবনা আছে, যদি খুব বেশি ব্যবহার করে হয়তো একটা সময়ের জন্য বা কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেব। এই লিংকগুলো (জঙ্গি অর্থায়নের সূত্র) যাতে ধরা যায়।’

১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদেও একই ধরনের বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। কিছুদিনের জন্য হলেও এটা বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের যাতে ধরা যায় সে পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এটা বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ধরা হবে।’

আরও পড়ুন