শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

বজ্রপাতে মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবেন ২৫ হাজার টাকা

lightning_strikesজলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ প্রেক্ষাপটে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বজ্রপাতে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বজ্রপাতে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ত্রাণ) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘প্রতিবছর অনেক মানুষ বজ্রপাতে মারা যান ও আহত হন। দুর্যোগের যে ইস্যুগুলো ছিল তার মধ্যে বজ্রপাত ছিল না, এখন এটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আমরা ফাইনাল স্টেজে (চূড়ান্ত পর্যায়ে) আছি।’

‘পত্রিকাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রতিবছর ২০০-এর বেশী লোক মারা যান। আমি মনে করি, মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি একটা ভাল জিনিস হবে। বজ্রপাতে যারা মারা যাবে তাদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন অর্থ সহায়তার পরিমাণের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে’ বলেন এ অতিরিক্ত সচিব।
সবকিছু চূড়ান্ত করতে এক মাসের বেশী সময় লাগবে না জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘চূড়ান্তের পর আমরা সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি লিখব। তারা নির্ধারণ করবেন কারা সহায়তা পাবে।’

মো. জাকির হোসেন আকন্দ আরও বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে সহায়তার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে চলতি অর্থবছরের মধ্যে হতাহতদের আমরা বিবেচনায় নিতে পারব বলে মনে করছি। তবে চলতি অর্থবছরের আগের কোনো হতাহত ব্যক্তিতে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে না।’

এর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশী।

এই অস্বাভাবিকতার কারণ হিসেবে কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কালো মেঘ সৃষ্টির পেছনে বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফার গোত্রের গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারও বজ্রপাতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘শুধু এ বছরের মে ও জুন মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রপাতে ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারের কোনো দফতরের কাছে। আর সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করায় বজ্রপাত প্রতিরোধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাভাবিক বায়ুতে ৭৮ দশমিক শূন্য ৯ ভাগ নাইট্রোজেন, ২০ দশমিক ৯৫ ভাগ অক্সিজেন, দশমিক ৯৩ ভাগ আর্গন ও দশমিক শূন্য ৩৯ ভাগ কার্বন ডাই অক্সাইড ও সালফারসহ সামান্য পরিমাণ অন্যান্য গ্যাস থাকে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ৬৪-১৪৩ মাইক্রোগ্রাম সালফার ডাই অক্সাইড বিদ্যমান। আর প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড রয়েছে ২৫-৩২ মাইক্রোগ্রাম, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী।

আরও পড়ুন