বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘প্রাণভিক্ষার আবেদনের অপেক্ষায় আছি’

khan_22_996267679স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুজাহিদের তরফ থেকে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তারা। খবর বিবিসি বাংলা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, সেই অনুযায়ী সব কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এই দুজন রায় পুর্নবিবেচনার যে আবেদন করেছিলেন, তা গত বুধবার আপিল বিভাগ নাকচ করে দেয়। গতকাল বিচারকরা এই রায়ের নথিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হয়ে গতকালই ফাঁসির দন্ডের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে।
গতকালই কারা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দুজনকে তাদের রায় পড়িয়ে শোনা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়, তারা প্রাণভিক্ষা চাইবেন কীনা। তখন এ বিষয়ে তারা কোন সিদ্ধান্ত জানাননি।

একজন উর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানতে পেরেছে, আজ (শনিবার) আবারও কারা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা। এদিকে দন্ডপ্রাপ্ত দুজনের পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আইনজীবীরা আদালতে গিয়ে এদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল। অন্যদিকে সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরিও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার এই দুজনের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন। প্রথমে সকালে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য কারাগারে যান।

তবে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোনও কথা বলেননি তারা। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীকে বুধবার কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করতে যান।

এই দুটি রায় ঘোষণার আগে থেকেই ঢাকা শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশে ফেসবুক, ভাইবার সহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন