মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য ফাঁসির মঞ্চে মহড়া দিয়েছেন ছয় জল্লাদ।
শনিবার সন্ধ্যার পরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর ফাঁসির মঞ্চে এই সাত জল্লাদ ফাঁসির মহড়া দিয়েছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচের পর রাত দশটার দিকে চূড়ান্তভাবে ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ছয় জল্লাদের মধ্যে রয়েছেন— শাহজাহান, রাজু, আবুল, হযরত, ইকবাল, মাসুদ ও মুক্তার। তাদের মধ্যে শাহজাহানের নেতৃত্বে রাজু ও আবুল ফাঁসি কার্যকর করবেন। তবে শাহজাহান যদি কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে রাজু ফাঁসি কার্যকর করবেন, তাকে সহযোগিতা করবেন আবুল ও হযরত। তবে শেষ মুহূর্তে শাহজাহান ও রাজুকে পরিবর্তন করে বাকি ৫ জন জল্লাদের একজন ফাঁসি কার্যকরও করতে পারেন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, জল্লাদ শাহজাহান ও রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। সেই সঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকায় তাদের নাম প্রথমে রাখা হয়েছে। তবে জল্লাদ শাহজাহানের বয়স হয়ে গিয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন তিনি।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু। শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ৩৬ বছর ধরে শাহজাহান এবং রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন। শাহজাহান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি, এরশাদ শিকদারসহ বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন।
এর আগে কারাগার সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ফাঁসির দু’টি মঞ্চের মধ্যে একটি মঞ্চকে পরীক্ষা করে দেখেন জল্লাদরা। মঞ্চ ধুয়ে প্রস্তুত রাখা হয়। তবে নতুন শামিয়ানা এখনো লাগানো হয়নি। ফাঁসির জন্য আনা হয়েছে ম্যানিলা রোপ। শনিবারের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে এবং জল্লাদরা ফাঁসির মঞ্চে মহড়াও দেবেন। ফাঁসির আগে চূড়ান্ত আরেকটি মহড়া দেওয়া হবে।


