বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বনানীতে শায়িত হলেন পরমাণু বিজ্ঞানী সিএস করিম

1448077787চার দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা চৌধুরী সাজ্জাদুল (সিএস) করিম। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে কৃতি এই বিজ্ঞানীকে তার সাবেক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।

৬৭ বছর বয়সী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) সাবেক এই চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টাকে দাফনের আগে মরদেহ তার এক সময়ের কর্মস্থল পরমাণু শক্তি কমিশনসহ রাজধানীর চারটি স্থানে নেওয়া হয়।

সেসব স্থানে তার জানাজার নামাজে সাবেক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সিএস করিমের প্রথম জানাজা হয়।

জানাজায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ তৈমুর নেওয়াজ, হাসপাতাল পরিচালক রউফ সরকার, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাইখ সিরাজসহ বিশিষ্টজনরা অংশ নেন।

সেখান থেকে সিএস করিমের মরদেহ নেওয়া হয় আগারগাঁওয়ের পরমাণু শক্তি কমিশনে। বেলা ১২টায় সেখানে জানাজার পর এই পরমাণু বিজ্ঞানীর এক সময়ের সহকর্মী বিএইসির সাবেক দুই চেয়ারম্যান ড. নঈম চৌধুরী ও কারার মাহমুদুল হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে সিএস করিমের মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তার বাসার কাছের বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে। জোহর নামাজ শেষে সেখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ বনানী কবরস্থানে দাফনের আগে সেখানে আরেকবার তার জানাজার নামাজ হয়।

বিজ্ঞানী সিএস করিমের কুলখানি আগামী বুধবার আসরের পর মোহাম্মদপুরের বাসায় অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে শাবাব করিম জানিয়েছেন। কুলখানিতে শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধও জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

সিএস করিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ জানুয়ারি নানা বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের চিনকি আস্তানার তাকিয়া বাড়িতে। বাবা বিচারক ছিলেন বলে মাধ্যমিক পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

১৯৬৪ সালে এসএসসি পাস করা সিএস করিম পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে রাশিয়ায় তিনি নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরেট করেন।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্য ছিলেন তিনি। কর্মজীবনে পেশাদারি দক্ষতার জন্য সহকর্মীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রশংসিত।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর সব সময় জোর দিতেন সিএস করিম। তিনি ছিলেন পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ফখরুদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নিলে তাতে কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সিএস করিম। সে সময় শস্য ফলন বাড়াতে তিনি সারা দেশ চষে বেড়ান, যা প্রশংসিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালনের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন সিএস করিম। তিনি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটিরও সভাপতি ছিলেন।বনানীতে চিরনিদ্রায় পরমাণু বিজ্ঞানী সিএস করিম।

আরও পড়ুন