বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সব ধরণের সহায়তা দেব: প্রধানমন্ত্রী

Capture৪জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের স্বার্থেই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে আরো বেশি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, “পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাব, বিনিয়োগকারী ও দেশের স্বার্থে নিজেদের কর্মকাণ্ড অধিকতর যত্নের সাথে পরিচালনা করুন। পুঁজিবাজারের নিরাপত্তার পাশাপাশি চাঙ্গা করতে সরকার সব ধরণের সহায়তা আপনাদের করবে।”

রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনা বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক বিনিয়োগ। একটি বলিষ্ঠ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর পুঁজিবাজার শিল্প-কারখানা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি আশা করি- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এ বিষয়ে সবসময়ই সজাগ থাকবে এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

এসময় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ছয় দশমিক দুই শতাংশ থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাতগুণ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরা বর্তমানে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি।”

ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত অঞ্চল গড়তে উদার মানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্রমোন্নতি ঘটছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুসম্পর্কের এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে সরকার সচেষ্ট থাকবে।

এর আগে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম এবং ভারতের পক্ষে ইউকে সিনহা এতে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও উন্নত স্তরে নিতে শিগগিরই কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালু করা, ডিজিটালাইজড ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ফাইনানশিয়াল লিটারেসি’ প্রোগ্রাম চালু করা।

এ সময় পুঁজিবাজারের নিরাপত্তার পাশাপাশি চাঙ্গা করতে সব ধরণের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়নে দু’দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন