বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আরও ৭২ জন

Kurigram-1লালমনিরহাটের পর কুড়িগ্রাম থেকে প্রথম দফায় রবিবার ভারত গেলেন সদ্য বিলুপ্ত দুইটি ছিটমহলের ১৫ পরিবারের ৭২ বাসিন্দা। এরমধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার ১০টি পরিবারের ৪৯ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৫টি পরিবারের ২৩ জন ভারতে যাওয়ার জন্য সকাল ১১টায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভণ্ডা সীমান্তের অস্থায়ী চেক পয়েন্টে পৌঁছান।

সেখানে ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের ট্রাভেল পাস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুপুর দেড়টায় ভারতের ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন তারা। ভারতগামীদের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের বরণ করেন ভারতের কোচবিহারের ডিএম পিউল গানাথনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সচিব অভিজিত মিত্র।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, ৪৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন কুড়িগ্রামের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জাকির হোসেন, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মাহমুদ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মিনিবাস ও পিকআপ করে সকাল ১০টায় স্ব স্ব ছিটমহল থেকে বাগভাণ্ডারের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এ সময় তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ দীর্ঘদিনের পরিচিত জনদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত দাসিয়ার ছড়া ছিটের বাসিন্দা লক্ষ্মী রানী বলেন, ‘আমার দুই ছেলে, ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনিসহ ১০ জন ভারতে যাচ্ছি। যেতে খুব খারাপ লাগছে কিন্তু উপায় নাই। আমার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ভারতে থাকায় সেখানে যেতে হচ্ছে।’

একই ছিটের অপর বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, ‘আমরা একই পরিবারের ৯ জন ভারতে যাচ্ছি। আরও ৪ ভাইসহ বাবা-মা বাংলাদেশে থাকবে। জন্মভূমি ছেড়ে যেতে খুবই খারাপ লাগছে।’

কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে শুধু দুটি ছিটমহলের ৬৭ পরিবারের ২৬৫ জন বাসিন্দা নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়ার ১০ পরিবারের ৪৯ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার গাড়োলঝাড়ার ৫ পরিবারের ২৩ জন। দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার ভারতে যাবেন দাসিয়ারছড়ার ৩০ পরিবারের ১১৫ জন ও তৃতীয় দফায় ভারত যাবেন দাসিয়ার ছড়ার ২৭ পরিবারের ৭৮ জন।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ১২টি ছিটমহল থেকে ৩০৫ জন ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতে যাওয়ার কথা থাকলে শেষ পর্যন্ত ২৬৫ জন ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে রবিবার ভারতে গেলেন দু’টি ছিটমহলের ১৫টি পরিবারের ৭২ জন। ২৪ নভেম্বর ভারতে যাবেন ৩০ পরিবারের ১১৫ জন এবং ২৬ নভেম্বর যাবেন ৩৭ পরিবারের ৩৮ জন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ নভেম্বর চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে লতামারী ও গতামারী ছিটমহল থেকে ৬২ জন ওপারের কোচবিহারে গেছেন।

আরও পড়ুন