বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাকা-মুজাহিদের পরিবারের জ্ঞানের অভাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Saka_Muzahidসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রাণভিক্ষা চাননি বলে পরিবারের দাবিকে জ্ঞানের অভাব বলেন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ‘তারা দু’জনেই সংবিধানের ৪৯ অনেুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন,’ সচিবালয়ে নিজ দফতরে রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি শনিবার দিবাগত রাতে কার্যকর করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও দু’জনের পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তারা প্রাণভিক্ষা চাননি।

প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিভ্রান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৪৯ আর্টিকেলে রাষ্ট্রপতির কাউকে ক্ষমার কথা বলা আছে। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম এরা হয়তো ক্ষমা চাইবেন না। এ জন্য ব্যবস্থা করেই রেখেছিলাম কিভাবে রায় কার্যকর হবে। কিন্তু আমরা সকালে দেখলাম প্রথম মুজাহিদ সাহেব যে অ্যাপ্লিকেশনটি দিল তার শিরোনামেই ছিল রাষ্ট্রপতি যাতে আর্টিকেল ৪৯ অনুযায়ী তার আবেদনটি মঞ্জুর করেন।’

‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদনটি ইংরেজিতে লেখা। শেষ লাইন দুটোতে তিনি আর্টিকেল ৪৯ অনুযায়ী তাকে কনসিডার (বিবেচনা) করতে বলেছেন।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘ক্ষমা চাইল কি, না চাইল সেটা প্রশ্ন আসে না। ক্ষমা না চাইলে আমরা এ সব কর্মকাণ্ডে যাব কেন? ক্ষমা না চাইলে আমরা কয়েক ঘণ্টা এ মন্ত্রণালয় সে মন্ত্রণালয় গিয়েছি কেন? ক্ষমা চেয়েছে বলে আইনমন্ত্রী লিখেছেন এটা (আবেদন) রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবেদন আমরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতি তা নামঞ্জুর করাতে পরবর্তী ধাপে গিয়েছে অর্থাৎ আমরা রায় কার্যকর করেছি।’

ক্ষমা চায়নি বলে পরিবার ও দলের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের হয়ত জ্ঞানের অভাব ছিল। কাগজগুলো তো আমাদের কাছে এসেছে। তাদের পরিবারের তো দেখার সুযোগ নেই সেখানে।’

ওই পর্যায়ে শুধু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিই ক্ষমার আবেদন করতে পারে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা আবেদন করেছিলেন এ জন্যই তো একের পর এক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছে। তা না হলে তো আমরা সরাসরি চলে (ফাঁসি কার্যকর) যেতাম।’

অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৪৯ আর্টিকেলে আবেদন করলে ওই রকমই বুঝায়।’

‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে তো (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) ছুটাছুটিতে কম যাননি। বঙ্গভবনে গিয়েছে, পার্টি চিফের বাসায় গিয়েছে, প্রেস রিলিজ দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করেছেন, সব জায়গায় গিয়েছেন’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘শাস্তি মওকুফ করার জন্য কিংবা একটা কৌশল বের করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা সে (হুম্মাম) করেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে আদালতের রায় বাস্তবায়নের কারণে সারা বাংলাদেশের মানুষ খুশি, তারা সারারাত ঘুমায়নি। তারা তাকিয়ে ছিল কখন রায় কার্যকর হবে, কখন তারা শান্তির নিঃশ্বাস নেবেন। রায়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করতে যাচ্ছি ও করছি।’

সোমবার হরতালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে হরতালে কোনো লাভ হবে না। দেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে, সেভাবেই এগিয়ে চলবে।’
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি আছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একই সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দারাও কাজ করছে। তবে এ রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি না।’

আরও পড়ুন