ভারতের গুজরাটে পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৫০০ মুসলমান প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। গুজরাটের আহমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ, বিজেপির সিনিয়র নেতা এলকে আদভানিসহ ২০০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি ভোটার রয়েছেন। রোববার সকালে মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল এবং বিজেপির সিনিয়র নেতা এলকে আদভানি তাদের নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
এদিকে ভারতের গুজরাটে পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার রাজ্যের আহমেদাবাদ, সুরাট, ভদোদরা, রাজকোট, ভাবনগর এবং জামনগর পুর কর্পোরেশনের ৫৭০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ নভেম্বর পুরসভা, জেলা পঞ্চায়েত এবং তালুকা পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিহারে চরম পরাজয়ের পর দলের ভেতরে এবং বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে বিজেপির নীতি পরিবর্তনের ফলেই রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। পুর নির্বাচনে অবশ্য বিজেপি ২০১০ সালেও ৩০০ মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছিল এবং এদের মধ্যে ২৫০ জনই জয়ী হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২২ এবং ২৯ নভেম্বর ৫৬টি পুরসভা, ৩১টি জেলা পঞ্চায়েত এবং ২৩০টি তালুকা পঞ্চায়েতের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফল প্রকাশ হবে ২ ডিসেম্বর। বিজেপির মোকাবিলা করতে কংগ্রেসও অবশ্য পিছিয়ে নেই।
তারা ৭০০ মুসলিম প্রার্থীকে এবার টিকিট দিয়েছে। গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান ভরত সিং সোলাঙ্কি বিজেপির পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেছেন, বিহারে নির্বাচনে হেরে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা সমর্থনের ভিত হারানোর ভয়ে ভিন্ন রণনীতি গ্রহণ করেছে। যদিও তারা সমাজের সব শ্রেণীর আস্থা হারাচ্ছে। রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেলের জন্য এ নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির অনুপস্থিতিতে এটাই বড় নির্বাচন।
আনন্দিবেন প্যাটেলের সামনে তার নিজের প্যাটেল সম্প্রদায় থেকে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। গত চার মাস ধরে সরকারি চাকরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করছে প্যাটেল/পাটিদার সম্প্রদায়। বেশ কয়েকটি জায়গায় বিজেপিকে পাটিদার সম্প্রদায়ের বিরোধিতার মুখে পরতে হয়েছে। বিহার নির্বাচনে চরম পরাজয়ের পর যদি গুজরাটের পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আশানুরূপ ফল না হয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেলের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তিও ধাক্কা খাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


