বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বন্ধ ফেইসবুকে ব্যবসায় ভাটা

facebook_office1-500x349ফেইসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার কমেছে গেছে। গত কয়েকদিনে ডেটা ব্যবহার গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রি। এসব দাবি মোবাইল ফোন অপারেটর ও আইআইজি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের। ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়ায় ডেটা ব্যবহার ক্রমাগত কমছে এবং শিগগিরই খুলে দেওয়া না হলে ব্যবসায় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

গত বুধবার থেকে বাংলাদেশে বন্ধ রয়েছে ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করার পর কবে নাগাদ এগুলো খুলে দেওয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত করেনি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবারও সাংবাদিকদের প্রশ্নে কোনো দিনক্ষণ বলেননি।

সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, এর ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ব্যবসার জন্যও তা ক্ষতিকর। সোশাল মিডিয়া বন্ধে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। ফেইসবুক বন্ধের কোনো কারণ ছিল না। ঘরে তো ঢোকাই যাচ্ছে, দরজা বন্ধ করে তো লাভ নেই।

ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেইটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেইসবুকসহ অন্যান্য অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার পর তাদের ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক অ্যাপ ব্যবহারে প্রায় তিন জিবিপিএস ডাটা খরচ হত, যা এখন নেই বলে জানান তিনি।

অন্যান্য অ্যাপে উল্লেখ করার মতো তেমন ডেটা ব্যবহার হয় না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিকল্প উপায়ে যারা ফেইসবুক ব্যবহার করছে তাদের চিহ্নিত করা যায় না, তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের আওতায় তাদের হিসাবে আনা হয়েছে।

কয়েকটি আইআইজি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেইসবুকসহ অন্যান্য অ্যাপ বন্ধ করা হলেও আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ে প্রভাব পড়বে না। কারণ তারা মাস ভিত্তিতে ডেটা বিক্রি করে থাকেন। তবে বেশিদিন বন্ধ রাখা হলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বিএসসিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, “কী পরিমাণ ডেটা ব্যবহার কমেছে, তার হিসাব এখনও করা হয়নি।”

এদিকে নিরাপত্তার ‘স্বার্থে’ বুধবার সরকার বন্ধ করে দিলেও নানা উপায়ে ফেইসবুক ব্যবহারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবহারকারীরা এবং তাতে সফল হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

কয়েকটি আইআইজি কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রযুক্তি না থাকায় ব্যবহারকারীরা এসব অ্যাপে ঢুকতে পারছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও ৯০ শতাংশ ব্যবহার বন্ধ করতে তারা সক্ষম।

আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২২০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। দেশে ৬টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রেরিয়াল কেবল (সাবমেরিন কেবলের বিকল্প) সংযোগে ১৫০ জিপিবিএস ব্যবহৃত হচ্ছে, বাকি ৬০ থেকে ৭০ জিবিপিএস ব্যবহার হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবল কোম্পানি বিএসসিসিএল-এর মাধ্যমে।

আরও পড়ুন