পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমাহামলার ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম খবরটি জানিয়েছেন। বলেছেন, এই তিনজনকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
মনিরুল বলেন, হোসেনি দালানের সামনে বোমা হামলার ঘটনার আগের দিন কামরাঙ্গীরচরে মাসুদ রহমান সুমনের বাসায় বোমাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। গাবতলীতে এএসআই ইব্রাহিম মোল্লাকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
“সুমন তাজিয়া মিছিলের হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, হোসেনি দালানের বোমা হামলার সময় মোট তিনজন উপস্থিত ছিলেন। তবে পরিকল্পনায় আরো অনেকে থাকতে পারে। ওই তিনজনকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, যেসব বোমা উদ্ধার করা হয়েছে তার সঙ্গে হোসেনি দালানে বিস্ফোরিত বোমাগুলোর হুবহু মিল রয়েছে। সুমন কিছু লোকের নাম বলেছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, বোমা হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর মধ্যরাতে হোসেনি দালানের সামনে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। পরে আরো দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ওই ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সঞ্জু নামে একজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় শতাধিক । পরে জামাল নামে আরো একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে চকবাজার থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।


