বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিআরবির জোড়া খুন: অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

66222_164চট্টগ্রামের সিআরবিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংর্ঘষে জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেননি আদালত। আদালত ঘটনাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকন এ আদেশ দেন। আদালত তদন্ত শেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবারও অভিযোগপত্র দাখিলেরও সময় বেঁধে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এসি, প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন, ৩১ ডিসেম্বর মামলার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। ওইদিন আদালতে চার্জশিট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও বহিষ্কৃত নগর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনসহ ৬২ জনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র পরিদর্শক আতিক আহমেদ চৌধুরী।

অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত এ মামলায় রাজনৈতিক চাপে গত আড়াই বছরে তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় মূল আসামিদের বাদ দেওয়ার জন্য। ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে বাবর, লিমন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু, নগর যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাতীকেও অভিযুক্ত করা হয়।

গত ২০১৩ সালের ২৪ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার রেল সদর দপ্তর-সিআরবিতে ৪৮ লাখ টাকার টেন্ডার জমা দেওয়া কেন্দ্র করে নগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। ওই সময় গোলাগুলিতে নিহত হন যুবলীগকর্মী সাজু পালিত ও আট বছর বয়সী শিশু আরমান হোসেন টুটুল।

ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এসআই মহিবুর রহমান বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনহ দুইপক্ষের ৮৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিমনসহ ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এর তিন দিন পর ঢাকা থেকে বাবর, রিটু দাশ বাবুলসহ মোট পাঁচজন এবং পরে আরও দু’জনসহ মোট ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সবাই কয়েক মাসের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। আর বাবরের সহযোগী অজিত বিশ্বাসকে দুই বছরেও গ্রেফতার করা যায়নি। ঘটনার সময় তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। এমন ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত ৬২ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গ্রেফতার হয়ে জামিনে রয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে আসামি অমিত মুহুরী ও শিমুল প্রসাদ কারাগারে আটক আছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।

সূত্র জানায়, অভিযোগপত্র থেকে মোট ২৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। আবার এজাহারে না থাকলেও শাহ আলম নামে একজনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। সাইফুল আলম লিমনকে এক নম্বর, লিমনের অনুসারী চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপুকে সাত নম্বর ও প্রতিপক্ষ হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে ৩৪ নম্বর আসামি হিসেবে দেখানো হয় অভিযোগপত্রে।

হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী আর সাইফুল আলম লিমন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জোড়া খুনের ঘটনার পর বাবর গ্রেফতার হলে তাকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ থেকে এবং লিমন গ্রেফতার হলে তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তীতে জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে বাবরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়ে পদোন্নতি পেয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হন। কিন্তু লিমনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সর্বশেষ তিন সহযোগীসহ লিমনকে বুধবার রাতে র‌্যাব গ্রেফতার করে। তার বাসা থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন