বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বন্দি ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দেবে ভারত

0,,17348171_303,00সাজার মেয়াদ অনেক দিন আগেই শেষ। তবু ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন ৩৫ জন বাংলাদেশি। তাঁদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নিয়েছেন আসামের কাছাড়ের জেলা প্রশাসক। আগামীকাল মৌলভীবাজারে ভারত-বাংলাদেশ জেলা প্রশাসক পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকার এ খবর দিয়েছে।

আগামীকাল মৌলভীবাজারে শুরু হবে তিনদিন ব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। এ বৈঠকে যোগ দিবেন আসামের কাছাড় ও করিমগঞ্জের জেলা প্রশাসক। আর বাংলাদেশের পক্ষে সিলেট ও মৌলবিবাজারের জেলা প্রশাসকসহ বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকার্তারা উপস্থিত থাকবেন।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের জন্য এরই মধ্যে ‘হোমওয়ার্ক’ সেরে নিয়েছেন কাছাড়ের জেলাশাসক এস বিশ্বনাথন। তিনি জানান, বন্দি প্রত্যর্পণ পৃথক ব্যাপার। কিন্তু যাঁদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, জেলা প্রশাসন পর্যায়ের আলোচনাতেই তাঁদের মুক্তি মিলতে পারে। সে জন্য বাংলাদেশের জেলা প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বন্দি বাংলাদেশিদের ঠিকানা পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
বিশ্বনাথন আশাবাদী- সে দেশের নাগরিকদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশ প্রশাসন তা করবে। বিশ্ব জুড়ে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ ধরনের কাজে জড়িত রয়েছে। তাঁদের দিয়েও ঠিকানা পরীক্ষা করানো যেতে পারে বলে পরামর্শ তাঁর। এর আগে ২২ জানুয়ারি শিলচরে হয়েছিল জেলাশাসক পর্যায়ের বৈঠক। তখন বন্দি বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তেমন গুরুত্ব পায়নি। বাংলাদেশের জেলাশাসকরা পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন- ‘ভারত থেকে নাম-ঠিকানা পাঠানো হলে তাঁরা খুঁজে দেখবেন। প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হলে দেশে ফিরিয়ে নেবেন।’
কাছাড় জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের সচিব, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হোসেন বড়ভুঁইঞা এক বার জেল পরিদর্শনের পর ওই সব বন্দিদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তারও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
শিলচরের জেল সুপার হরেন কলিতা জানান, বিনা পাসপোর্টে ভারতে প্রবেশ-সহ নানা অপরাধে বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছেন তাঁরা। আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ- দেয়। সে মেয়াদ শেষ হয়েছে কারও ২ বছর, কারও ৪ বছর আগে। অর্চনা বিশ্বাস নামে এক মহিলা দুই শিশুপুত্র নিয়ে জেলে ঢুকেছিলেন। ভেতরেই বড় হচ্ছে তাঁর গোবিন্দ-গোপাল।
হরেনবাবু জানান, বিভাগীয় রীতি মেনে তাঁরা তাঁদের ইন্সপেক্টর জেনারেলকে রিপোর্ট করছেন। উপযুক্ত স্তরে সিদ্ধান্ত হলেই সকলের মুক্তির ব্যবস্থা হতে পারে। তিনি জানান, ৩৫ জনের সবাই অবশ্য আদালতের কাছে নিজেদের বাংলাদেশি বলে স্বীকার করেছেন এবং অনেক দিন থেকে স্বদেশের মাটিতে ফেরার অপেক্ষা করছেন। এমনই আরও ৮ জন বাংলাদেশি এখন বিচারাধীন বন্দি। তাঁরাও আদালতের কাছে নিজেদের বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন।

আইনজীবীদের অনেকের কথায়, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁদের আটকে রেখে ভরণপোষণের কোনও যুক্তি নেই। দ্বিতীয়ত, শিলচর সংশোধনাগারে ৪৩৫ বন্দির পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু বন্দি রয়েছেন অনেক বেশি। তৃতীয়ত, মেয়াদের বেশি সময় বন্দি রাখা মানবাধিকার লক্সঘনের সামিল। অখিল ভারতীয় অধিবক্তা পরিষদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল কমিটির সম্পাদক শান্তুনু নায়েক বলেন, ‘‘বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও দু’দেশের মধ্যে কথাবার্তায় তাঁদের মুক্তি দেওয়া যেতেই পারে।’’

তবে বাংলাদেশের জেলাশাসকদের উপযুক্ত সাড়া পেলেই কাছাড়ের উদ্যোগ সার্থক হতে পারে। বিশ্বনাথন জানান, বন্দি ফেরানো ছাড়াও দু’দেশের আলোচনায় চোরাকারবার, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হাট, জলসীমা, রেল ও সড়কের বিষয়গুলিও বৈঠকে উঠে আসবে। কাছাড়ের পাঁচ জনের প্রতিনিধিদলে তিনি ছাড়াও রয়েছেন পুলিশ সুপার রজবীর সিংহ এবং দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক এম কে দাস ও এ আর শেখ।

আরও পড়ুন