মার্কিন মদদে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই মন্ত্রী। ঢাকায় এক ইমাম সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন- বাংলাদেশে আইএস নেই, তবে আইএস এর নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে। আর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এখানে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠায় তৎপর আছে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা, শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা, কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা করে হত্যা করা কিংবা বগুড়ায় শিয়া মসজিদে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে বারবার। আর এসব ঘটনায় ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠন আইএসকে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইহুদী মালিকানাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স থেকে বার্তাও প্রকাশ হচ্ছে বারবার।
এমন পরিস্থিতিতে ইসলামের আবরণে বাংলাদেশে যেন জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সচেতন করতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে আয়োজন করা হয় ইমাম সম্মেলন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ ধরণের ঘটনা ঘটছে।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। আজ তারাই নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। যারা বিভিন্ন দেশে জঙ্গিদের জন্ম দেয়, আইএসের জন্মদাতা আমেরিকা, জঙ্গিদের মূল জন্মদাতা আমেরিকা। আজকে তারাই বিভিন্ন দেশে মার খাচ্ছে। তারা বলছে, জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের সাথে আছি, এটা তাদের নতুন ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে কোনোভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।’
বাংলাদেশে শিয়া সুন্নি বিভেদ তৈরির চেষ্টা রুখে দিতে আলেম সমাজের প্রতি আহবান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি বলেন, ‘কোনো একটা ঘটনা ঘটলেই ৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকায় একটি বার্তা চলে যায়। তখন আমেরিকার সাইট নামক প্রতিষ্ঠান বলে এটা আইএস করেছে। আইএস নামে কোনো সংগঠন বাংলাদেশে নেই। তাদের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। আইএসের নাম দিয়ে আমাদের মধ্যে একটি বিভেদ সৃষ্টি করতে এবং বিভেদের সুযোগ নিয়ে আজকে আমাদের অকার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের।


