বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বিএনসিসি সদস্যকে ছাত্রলীগের মারধর

bncc cadet attackedইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির নৌ শাখার এক ক্যাডেট সদস্যকে মারধর করে অচেতন ক​রে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মাথায় ও কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পাওয়া রাশেদুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ভবনের নিচে এ ঘটনা ঘটে। আহত রাশেদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর বিভাগের ছাত্র।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনে বিএনসিসির সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন রাশেদুল ইসলাম। এ সময় প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মী ও ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমানের পরিচয়পত্র দেখতে চান রাশেদুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাশেদুল কলা অনুষদ ভবনের নিচে এক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের মাহমুদ, রিয়ন মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন বিপুলসহ আরও কয়েকজন রাশেদুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিল, ঘুষি, লাথি খেয়ে একপর্যায়ে রাশেদুল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা অনুষদ ভবন থেকে পালিয়ে যান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঘটনাস্থল থেকে রাশেদুলকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের এই কর্মীরা তৌহিদুরের বন্ধু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভেজ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার মাথায় ও কোমরে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তাকে সিটিস্ক্যান করাতে হতে পারে।’

তৌহিদুর বলেন, ‘কথা-কাটাকাটির জের ধরে যে ওরা (বন্ধুরা) এমন ঘটনা ঘটাবে আমি জানতাম না। পরে শুনেছি। ঘটানাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ছাত্রলীগের কেউ নয়।’

তবে রাশেদুলের বন্ধুরা দাবি করেন, ওই ঘটনার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। কারণ রাশেদুল কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে প্রক্টর মাহবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন