ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, একশ্রেণির নেতা ও কালো টাকার ব্যবসায়ীদের হাত থেকে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা গতকাল (রোববার) ভাঙচুর ও সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন।
ভবিষ্যতেও কেউ সড়ক দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ব্যবসায়ী নেতা থেকে জনপ্রতিনিধি বনে যাওয়া আনিসুল হক। তিনি বলেন, “এখানে যদি আর কেউ কোনো কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের হেব্বি পেটানো হবে।”
আগের দিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা কার্যত অবরুদ্ধ থাকার পর বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র্যাবের পাহারায় বেরিয়ে আসা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সোমবার ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটারের মধ্যের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
ওই অভিযানের সময় বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের অফিসে মেয়রের ‘অবরুদ্ধ’ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা উড়িয়ে দেন আনিসুল হক।
কারওয়ান বাজারের লা ভিঞ্চি হোটেলে ‘জন দুর্ভোগ নিরসনে উচ্ছেদ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গতকাল যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তাতে যে কারও মনে হবে মেয়র হয়ত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। এটির কারণে কিছু কনফিউশন তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমেও বলা হয়েছে, মেয়র দুই ঘণ্টা ঘরে।
“আমাদের কাছে প্রচুর ফোর্স ছিল, তারা মব ক্লিন করে দিতে চেয়েছিল। আমি বারবার বলেছি, না কারও গায়ে হাত দেবেন না। এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, শ্রমিকদের ভুল বোঝানো হয়েছে। পরে কিন্তু আমি বের হয়েছি। শ্রমিকদের সাথে কথাও বলেছি। তারা হাততালি দিয়েছে।”
রোববার দুপুরে মেয়র স্ট্যান্ডের বাইরে সড়কে রাখা ট্রাক বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে চাইলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তখন পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। এতে এক শ্রমিকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, মেয়র আটকা পড়েন।
উচ্ছেদে কারা বাধা দিয়েছিল- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, “মেয়রকে বাধা দেওয়ার শক্তি তাদের নেই। কিছু নেতা, যারা দীর্ঘদিন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে টাকা তোলেন, তারাই ঝামেলা করতে চেয়েছে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল মেরেছে।
“পরে আমি একা গেছি, বলেছি আমার গায়ে ঢিল মারো। কেউ মারেনি। এদের মধ্যে কিছু ইমপোর্টেড (বাইরের) শক্তি আছে। সব কথা এখানে বলা সম্ভব নয়। এরা হলেন অবৈধ শক্তি, মাদক ব্যবসার শক্তি।”
আনিসুল হক আরো বলেন, ওই এলাকার রাস্তা এখন যানজট ও দখলমুক্ত। ধারাবাহিকভাবে ঢাকা উত্তরকে যানজট ও দখলমুক্ত করতে রাস্তার পাশের সব পার্কিং বন্ধ করে তৈরি করা হবে মডার্ন ট্রাকস্ট্যান্ড। আর কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার সরিয়ে নিতে করা হয়েছে আরো তিনটি বাজার।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘর্ষ হয় পুলিশ-ট্রাক শ্রমিকদের সঙ্গে। প্রায় তিন ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ও আহত হন কয়েকজন, ভাঙচুর হয়। সিটি করপোরেশন ও সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন মেয়র আনিসুল হক।
অপ্রীতিকর ওই ঘটনার কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা জানাতেই ঢাকা উত্তর সিটির মেয়রের এই সংবাদ সম্মেলন।
একই সঙ্গে নগরপিতা জানান, শুধু তেজগাঁওই নয়, নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে করা হচ্ছে মডার্ন ট্রাক ও বাসস্ট্যান্ড। রাস্তার পাশের অবৈধ গাড়ি পার্ক বন্ধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতেও ধারাবাহিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


